Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভূপতিনগরে তেল কাটিং কারখানায় হানা, বাজেয়াপ্ত ট্যাঙ্কার সহ সরঞ্জাম

ভূপতিনগর থানার বাজকুলে অবৈধ তেল কাটিং কারখানায় হানা দিয়ে একটি ট্যাঙ্কার সহ অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস।

ভূপতিনগরে তেল কাটিং কারখানায় হানা, বাজেয়াপ্ত ট্যাঙ্কার সহ সরঞ্জাম
  • ৩০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ভূপতিনগর থানার বাজকুলে অবৈধ তেল কাটিং কারখানায় হানা দিয়ে একটি ট্যাঙ্কার সহ অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। সোমবার গভীর রাতে ডিস্ট্রিক্ট এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ ও ভূপতিনগর থানার যৌথ উদ্যোগে ওই অভিযান চলে। ‌একটি কেরোসিন ভর্তি ট্যাঙ্কার, তেল বের করার মোটর, প্রচুর ড্রাম, পাইল, ফানেল প্রভৃতি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। স্থানীয় বুদ্ধদেব দাস ওই অবৈধ তেল কাটিং চালাত বলে অভিযোগ। ওই কারবারে হাত পাকিয়ে বুদ্ধদেব সাতটি ট্রলার, একটি হোটেল, একটি ট্যাঙ্কার ও ১১৬বি জাতীয় সড়কের ধারে প্রচুর জমির মালিক বলে জানা গিয়েছে। তার বিরুদ্ধে সুয়োমটো কেস করেছে পুলিস। অভিযুক্ত পলাতক। তার সম্পত্তির বহর দেখে হতবাক পুলিস অফিসাররা। জানা গিয়েছে, বাজকুলে রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির(আরএমসি) চেক গেটের কাছে জাতীয় সড়কের ধারে রমরমিয়ে ওই তেল কাটিং কারবার চলছিল। সেখানে ট্যাঙ্কার থেকে তেল বের করে ভেজাল তেল ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। কাজের সুবিধার জন্য তৈরি করা হয়েছিল ওয়েব্রিজ। ট্যাঙ্কার থেকে ডিজেল, পেট্রল বের করে নেওয়ার পর কেমিক্যাল মিশিয়ে ওই ওয়েব্রিজে মেপে আগের মতোই ওজন সমান করে নেওয়া হতো। এই কারবার দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। তিনদিন আগে ওই তেল কাটিং কারখানায় একটি ট্যাঙ্কার ঢোকার পর পথ দুর্ঘটনা ঘটে। তারপর ডিইবি-র পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয়। জানা গিয়েছে, রেশনে বরাদ্দ কেরোসিন এখন ফেরিওয়ালাদের হাত ঘুরে নন্দকুমারে বিক্রি হয়। সেখান থেকে কেরোসিন আসত বাজকুলে। সেই কেরোসিন মেশানো হতো ডিজেল এবং পেট্রল। এরপর ওইসব ভেজাল তেল বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলার ও চিংড়ি মাছের ভেড়িতে পাম্প চালানোর কাজে ব্যবহার হয়। এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকার ভেজাল তেলের কারবার করে বুদ্ধদেব ফুলেফেঁপে উঠেছিল। স্থানীয়দের দাবি, থানার সঙ্গে আঁতাত করেই দিব্যি কারবার চলছিল। আপাতত ডিস্ট্রিক্ট এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ ওই ঘটনার তদন্ত করবে। বাজকুলের পাশাপাশি ভগবানপুর থানার বাজাবেড়িয়ায় জাতীয় সড়কের ধারে একটি হোটেলের পিছনেও অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় থানার পুলিস ডিইবিকে অভিযানে সহযোগিতা করে। অভিযুক্ত বুদ্ধদেব দীঘাগামী জাতীয় সড়কের ধারে ওই হোটেল বানিয়েছে। সেই হোটেলের পিছনেও তেল কাটিং চলত বলে অভিযোগ। কেরোসিন মেশানো ওই ভেজাল তেল মূলত সমুদ্রে ট্রলার ও ভেড়িতে পাম্প চালানোর কাজে সরবরাহ করা হতো।  

Advertisement

পুলিস জানিয়েছে, বাজেয়াপ্ত কেরোসিন ভর্তি ট্রলারটি মহিষাদলের একজনের কাছ থেকে বুদ্ধদেব কিনেছিল। কিন্তু, এখনও মালিকানা বদল করেনি। তার বিপুল সম্পত্তির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে ফের ডিইবি-র তদন্তকারী অফিসার বুদ্ধদেবের খোঁজে বাজকুলে যান। যদিও অভিযুক্ত পলাতক। ভূপতিনগর থানার ওসি শেখ মহম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, একটি ট্যাঙ্কার, মোটর, অনেক ড্রাম, পাইপ ইত্যাদি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ