Bartaman Logo
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবমীতে ইলিশ সহযোগে মা দুর্গাকে ভোগ নিবেদন, লালগোলার বাঁশগড়া পাকাকাছারি দুর্গামন্দির

রাজা নেই। রাজ পরিবারের বর্তমান সদস্যরাও পুজোর আয়োজন থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখেছেন। স্বাভাবিকভাবেই কালের নিয়মে রাজ পরিবারের পুজো এখন বারোয়ারিতে পরিণত হয়েছে

নবমীতে ইলিশ সহযোগে মা দুর্গাকে ভোগ নিবেদন, লালগোলার বাঁশগড়া পাকাকাছারি দুর্গামন্দির
  • ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: রাজা নেই। রাজ পরিবারের বর্তমান সদস্যরাও পুজোর আয়োজন থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখেছেন। স্বাভাবিকভাবেই কালের নিয়মে রাজ পরিবারের পুজো এখন বারোয়ারিতে পরিণত হয়েছে। তা সত্ত্বেও আজও প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে রাজ পরিবারের নামে সংকল্প করে তবেই লালগোলার বাঁশগাড়া পাকাকাছারি দুর্গা মন্দিরে মায়ের পুজো শুরু হয়। কালমেঘার বাঁশগাড়া সরকারপাড়া ও মিস্ত্রিপাড়ার বাসিন্দারা নিজেরাই ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে উমার আরাধনা করে আসছেন। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই পুজোর দিনগুলিতে উৎসবে মাতেন। মন্দির সংলগ্ন এলাকায় গ্রামীণ মেলা বসে। আগে পুজো শেষে একাদশীর দুপুরে মন্দিরের পিছন দিয়ে বয়ে যাওয়া ভৈরব নদীতে দেবীর বিসর্জন হত। ভৈরব বহুকাল আগেই গতি পরিবর্তন করে অনেক দূরে সরে গিয়েছে। প্রাচীন রীতি মেনে ভৈরবের পরিত্যক্ত ডোবায় বর্তমানে দেবীর বিসর্জন  হয়।

Advertisement

লালগোলার মহারাজা যোগীন্দ্র নারায়ণ রায় প্রকৃত অর্থেই দানশীল ছিলেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানীয় জল সহ একাধিক ক্ষেত্রে তার কর্মকাণ্ডের সুফল আজও মুর্শিদাবাদ জেলার পাশাপাশি রাজ্যবাসী পেয়ে চলেছেন।  বছরের কয়েকটা দিন প্রজাদের জীবন আনন্দে ভরিয়ে তুলতেই প্রায় দেড়শো বছর আগে লালগোলা থানার কালমেঘার বাঁশগাড়া পাকা কাছারি বাড়িতে দুর্গাপুজো চালু করেন। প্রজাদের সঙ্গে পুজোর আনন্দ ভাগ করে নিতে ষষ্ঠী থেকে একাদশী পর্যন্ত ছ’দিন মহারাজা সপরিবারে কাছারি বাড়িতে থাকতেন। পুজো উপলক্ষ্যে গ্রামে ঘুরে প্রজাদের আর্থিক অবস্থা পরখ করতেন। দু:স্থ প্রজাদের খাজনা মুকুব করতেন। পুজোর উপহার হিসেবে নতুন জামাকাপড় বিলি করতেন। গ্রামের প্রবীণরা বলেন, রাজার নির্দেশে পুজোর চারদিন কাছারিপাড়া সহ আশপাশের গ্রামগুলিতেও উনুন জ্বলত না।  প্রজারা রাজার আতিথ্য গ্রহণ করে তিনবেলা পেট পুরে খেতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে রাজপ্রথার বিলুপ্তির পর গত শতাব্দীর সাতের দশকে পুজো বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর মানিকচক গ্রামের বাসিন্দা মিহির কুমার রায় নিজের উদ্যোগেই পুজো চালু করেন। এর কয়েক বছর পর গ্রামবাসীরা বাঁশগাড়া পাকা কাছারি দুর্গামন্দির কমিটি গঠন করে। তারপর থেকে ওই কমিটিই পুজো চালিয়ে আসছে।  পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ দিলীপ সরকার বলেন, রাজা নেই, তাই পুজোর আয়োজনে সেই জৌলুসও নেই। কিন্তু রাজরীতির পরিবর্তন হয়নি। এখনও নিয়ম মেনে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে মন্দিরের সামনে বসিয়ে পুজোর দিনগুলিতে প্রসাদ খাওয়ানো হয়। মায়ের ভোগে থাকে খিচুড়ি, পাঁচ তরকারি, ও মাছ । নবমীতে ইলিশ মাছ সহযোগে ভোগ নিবেদন করা হয় উমাকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ