নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: প্রেমিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে শ্রীঘরে গেল যুবক। ধৃতের নাম মেঘনাদ মণ্ডল। বাড়ি ভূপতিনগরে। ওই যুবক একসময় হলদিয়ায় থাকত। সেখানকার এক যুবতীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয় ওই যুবক। যুবতী নাছোড় থাকায় প্রেমিকার সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দেয়। ২০১৭সালে ২৭অক্টোবর এনিয়ে হলদিয়া মহিলা থানায় এফআইআর করেন ওই যুবতী। সেই মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছিল হলদিয়া এসিজেএম কোর্ট। মঙ্গলবার রাতে ভূপতিনগর থানার পুলিস বিডিও অফিস সংলগ্ন বাড়ি থেকে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের বাবা পেশায় আরপিএফ কর্মী। বুধবার তাকে হলদিয়া এসিজেএম আদালতে তোলা হলে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেন বিচারক।
জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের বিরুদ্ধে ফুসলিয়ে আপত্তিজনক কাজ, ভয় দেখানো এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার ঘটনায় আইটি অ্যাক্টে মামলা দায়রা হয়েছিল। আট বছর আগে হলদিয়া মহিলা থানায় ওই কেস হলেও অভিযুক্তকে ধরা যায়নি। সেই মামলায় গত ১১ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত মেঘনাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করে হলদিয়া কোর্ট। অভিযুক্তের বাড়ি ভূপতিনগরে হওয়ায় ওই ওয়ারেন্ট কপি পৌঁছয় সেখানকার থানায়। মঙ্গলবার রাতে ওই থানার পুলিসের একটি টিম অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
হলদিয়া মহিলা থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবক একসময় হলদিয়ায় একটি কারখানায় কাজ করত। সেখানে থাকাকালীন তার সঙ্গে ওই যুবতীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেত বলে অভিযোগ। ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর সেইসব ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপরই ওই যুবক হলদিয়া ছেড়ে চলে যায়। ওইসব ছবি সামনে আসতেই ওই যুবতী সমস্যায় পড়েন। বাধ্য হয়ে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সাত বছর ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার পর শেষমেশ পুলিসের হাতে ধরা পড়ে।
প্রেমের সম্পর্ক আলগা হলেই আপত্তিকর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। তমলুক সাইবার ক্রাইম থানায় এনিয়ে পর পর বেশ কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়েছে। অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি নিয়ে ব্ল্যাকমেল করা, টাকা হাতানো সহ নানাভাবে অস্ত্র করা হচ্ছে। তমলুক থানা এলাকায় এরকম একটি ঘটনায় তমলুক সাইবার ক্রাইম থানার পুলিস হলদিয়া থেকে এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছিল।
হলদিয়া মহিলা থানার ওসি দেবযানী মাল পাল বলেন, ২০১৭সালে ওই যুবকের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর হয়েছিল। তারপর হলদিয়া কোর্ট তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছিল। ভূপতিনগর থানার পুলিস সেই পরোয়ানা কার্যকর করেছে। ভূপতিনগর থানার ওসি শেখ মহম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করে হলদিয়া কোর্টে পাঠানো হয়েছে।