Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দীঘার সৈকতে জীবন্ত স্ট্যাচু ওড়িশার মানস, দেখতে ভিড়

দীঘার সৈকতে চলতে চলতে আচমকাই দেখা পাবেন ভগবান রাম, আবার কখনও কৃষ্ণের মূর্তির। কিন্তু কিছুটা এগলেই ভাঙবে ভুল।

দীঘার সৈকতে জীবন্ত স্ট্যাচু ওড়িশার মানস, দেখতে ভিড়
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৫ ১৭:১১
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: দীঘার সৈকতে চলতে চলতে আচমকাই দেখা পাবেন ভগবান রাম, আবার কখনও কৃষ্ণের মূর্তির। কিন্তু কিছুটা এগলেই ভাঙবে ভুল। থুড়ি, মূর্তি নয়! সমুদ্রতটে হাসিমুখে নানারূপে ধরা দেন তিনি। সন্ধ্যে নামলেই ভিড়ের মাঝে এক যুবক একেবারে সোনালি রংয়ে নিজেকে মুড়ে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকেন, যেন এক অচল মূর্তি। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, হয়তো সত্যিই কোনও পাথরের মূর্তি দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু কাছে এলেই ভুল ভাঙে। 

Advertisement

তিনি ওড়িশার বালেশ্বরের বাসিন্দা মানস সরেন। প্রতিদিন নিজে গায়ে সোনালি রং মেখে স্ট্যাচু সেজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকেন দীঘার সৈকতে। পর্যটকদের কাছে এক নতুন আকর্ষণ এই জীবন্ত স্ট্যাচু। চোখে পোকা পড়লে কিংবা গায়ে পিঁপড়ে উঠলেও নড়বার জো নেই।  স্থির হয়ে, অসীম ধৈর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। না হলে তো স্ট্যাচু সাজার শিল্পের কোনও মূল্যই থাকে না! 
পর্যটকরা প্রথমে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন। কেউ কেউ তাঁকে ছুঁয়েও দেখে নেন। আবার অনেকেই বিস্ময়ে মুগ্ধ হয়ে মানসের সঙ্গে সেলফি তোলেন। কেউ বা ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন। কেউ তাঁকে কিছু টাকা দেন। কেউ শুধু প্রশংসা করেই চলে যান। দীঘার সমুদ্রতটে এখন এক নতুন আকর্ষণ এবং পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন মানস।  মানসের এই জীবন্ত স্ট্যাচু সাজার পিছনে রয়েছে কঠিন বাস্তবতা। মানস একসময় বিভিন্ন মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে মূর্তি সেজে মানুষকে আনন্দ দিতেন। কখনও রাম, কখনও কৃষ্ণ, কখনও সৈনিক কিংবা স্বাধীনতা সংগ্রামী সাজতেন। কিন্তু সেসব জায়গায় খুব সামান্যই আয় হত। যা দিয়ে সংসার চালানো মুশকিল হয়ে পড়ছিল। 
এরপরই সমস্যার সমাধান খুঁজতে মানস পাড়ি দেন দীঘায়। এখানে কয়েকমাস আগে জগন্নাথ মন্দির তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন হাজার, হাজার পর্যটক ভিড় জমান দীঘায়। পর্যটকদের মুখে হাসি ফোটানোই এখন মানসের পেশা। সন্ধ্যা নামলেই তিনি নিজের শরীরে রং লাগিয়ে, মুখে ধাতব আভা এনে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন এক জায়গায়। এখানে এলে কমবেশি রোজগার হয়। তবে দীঘা শুধু নয়, ডাক পেলে বিভিন্ন মেলাতেও যান মানস।  শিল্পী মানস বলেন, আমি স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও আমার মূর্তিতে প্রাণ আছে। মানুষের মুখে হাসি ফোটানোতেই যে আমার আনন্দ।  এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকেন, কষ্ট হয় না? মানসের জবাব, কষ্ট তো হয়ই, তবে মানুষের ভালোবাসা আর আমার পরিশ্রমের মূল্য পেলে সব লাঘব হয়ে যায়।  তবে মানসের এই জীবন্ত স্ট্যাচু শিল্প শুধু পর্যটকদের নিখাদ আনন্দই দেয় না। সঙ্গে দেয় অনন্য বার্তা, মানুষের নিরন্তর জীবন সংগ্রাম কখনও সখনও তামাম জীবনকেও দেয় শিল্পকলারই রূপ।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ