Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেদার ফুটপাত দখল, শিল্পাঞ্চলে রাস্তায় যানজট সমস্যা, ভোগান্তি

কোনওরকমে টোটো জোগাড় করে আসানসোল জেলা হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দিলেন।

দেদার ফুটপাত দখল, শিল্পাঞ্চলে রাস্তায় যানজট সমস্যা, ভোগান্তি
  • ২০ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: চিত্র ১: স্ত্রী পেটের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। তাঁকে নিয়ে আসানসোলে বাসস্ট্যান্ডে নেমে উদভ্রান্তের মতো ছোটাছুটি করতে লাগলেন দেবেশ হালদার। কোনওরকমে টোটো জোগাড় করে আসানসোল জেলা হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দিলেন। টোটোয় চাপাই সার, চাকা আর এগয় না। হটন রোডজুড়ে জ্যাম। টোটোতে বসে স্বামীর হাত শক্ত করে ধরে কাতরাচ্ছেন গৃহবধূ। অসহায় স্বামীর জ্যাম চাক্ষুষ করা ছাড়া কিছুই করার নেই। একসময়ে চওড়া হটন রোড এখন যে সরু গলিতে পরিণত হয়েছে। রাস্তা ফুটপাত দখল করে চলছে বেপরোয়া নির্মাণ। অথচ মুখে কুলুপ পুরসভা থেকে প্রশাসনের। 

Advertisement

চিত্র ২: মেয়ে দীপিকাকে স্কুটিতে বসিয়ে বাজার করতে এসেছিলেন গৃহবধূ লাভলি রায়। গরমে রীতিমতো রাস্তায় দাঁড়িয়ে পুড়ছেন দু’জন। ঘিঞ্জি জামুড়িয়া বাজারে ঢুকেছে দৈত্যকার লরি। সেই কারণে জামুড়িয়া বাজারজুড়ে যানজট। দীপিকা মাকে বলল, এবার বড় শহরে একটা ঘর কর। নীরব রইলেন মা। 
চিত্র ৩: রানিগঞ্জ বড় বাজার কার্যত যতুগৃহ। রাস্তার পাশে ভঙ্গুর বিল্ডিং। বৃদ্ধ সুকুমার পাল বাজার করতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, রানিগঞ্জে এই যন্ত্রণা আর ঘুচবে না। 
শুধু এই তিন শহর নয়, কুলটি থেকে সালানপুরের দেন্দুয়া, বারাবনি বাজার সর্বত্রই যানজটের সমস্যা বাড়ছে। সৌজন্যে রাস্তা দখল। সম্প্রতি হটন রোডে একটি নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। সেখানে রাস্তার উপরই একটি নতুন স্থায়ী নির্মাণ দেখা গিয়েছে। নির্মাণের ছাদ পর্যন্ত ঢালাই করা হয়েছে। এভাবে রাস্তার উপর কীভাবে দু’টি দোকান তৈরি হল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুরসভার ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়। যদিও হটন রোডের উপর এই নির্মাণ ব্যাতিক্রম নয়। এর আগেও রাস্তার উপর এভাবে দোকান গড়ে তোলা হয়েছে। যদিও তাদের ছাদ ছিল অ্যাসবেসটস বা টিনের। এই নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সময়েই আইএনটিটিইউসির নেতা রাজু আলুওয়ালিয়া বলেছিলেন, পুরসভা অবৈধ নির্মাণ ভাঙবে কী করে? পুরসভাই রেলের জমি দখল করে রাস্তা আটকে মার্কেট কমপ্লেক্স করছে। 
শুধু হটন রোড নয়, রাস্তা দখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে এসবি গড়াই রোডের উপরেও। সেখানেও রাস্তা দখল হলে কোনও কঠোর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ইট, বালি, পাথরের মতো নির্মাণ সামগ্রী রাস্তার উপর ফেলে রাখা হচ্ছে। তাতেও সড়ক যন্ত্রণায় নাকাল হচ্ছে মানুষ। বড় রাস্তা থেকে গলি, সর্বত্রই একই পরিস্থিতি। কিছুদিন আগে ইসমাইল মোড় থেকে হোমিওপ্যাথি কলেজ হয়ে বার্নপুর যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উপর একটি বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তখনই দেখা যায়, রাস্তা দখল করে নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা সরব হলেও উদাসীন প্রশাসন। একই ধরনের যানজট সমস্যা রয়েছে বরাকর বাজারে। সেখানেও বরাকর গ্রামীণ হাসপাতাল যেতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে।
মেয়রের চেয়ারে বসেই যানজট সমস্যা মেটানো নিয়ে আশা জাগিয়েছিলেন বিধান উপাধ্যায়। ভগৎ সিং মোড় থেকে সেনর‌্যালে রাস্তা দখলমুক্তও করেন। কিন্তু, তারপরই গতি থেমে গিয়েছে। বিধানবাবু বলেন, রাস্তা দখল করে নির্মাণের বিরুদ্ধে ফের অভিযান হবে। পুরসভা রেলের জমি দখল করে নির্মাণ করছে এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। (চলবে)

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ