নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বিএলওরা অ্যাপ নিয়ে নাজেহাল হচ্ছেন। সার্ভার ডাউন থাকার জন্য ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ করতে তাঁদের বেগ পেতে হয়। তা নিয়ে তাঁরা ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। এবার সেই সফটওয়্যার সমস্যার কথা মানলেন স্পেশাল রোল অবজারভার সুব্রত গুপ্ত। বুধবার তিনি এসআইআর নিয়ে বৈঠক করতে বর্ধমানে এসেছিলেন। ইলেক্টোরাল রোল অবজাভার স্মিতা পাণ্ডেও বৈঠকে যোগ দিয়েছিল। সর্বদলীয় বৈঠকের পর তাঁরা জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। জেলাশাসক আয়েশা রানি এ সহ অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে এসআইআরের খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। পূর্ব বর্ধমানে এখনও বেশকিছু ইনিউমারেশন ফর্ম সংগ্রহ করা হয়নি। সেই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন তিনি।
রাজনৈতিক দলগুলিও বিশেষ পর্যবেক্ষকের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। সিপিএম নেতা অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ১০০ শতাংশ ফর্ম কীভাবে বিলি হয়ে গেল, তা আমরা জানতে চেয়েছিলাম। অনেক জায়গায় বিএলওরা এক জায়গায় বসে ফর্ম বিলি করেছেন। প্রমাণ সহ আমরা তা জমা করেছি। এছাড়া ডেটা এন্ট্রির কাজ শাসক দলের সহযোগী সংস্থা দিয়ে করানো হয়েছে।
সিপিএমের সুরে সুর মেলায় বিজেপি। বর্ধমান সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি অভিজিৎ তা বলেন, একটি নির্দিষ্ট সংস্থা ডেটা এন্ট্রির কাজ করছে। বাইরের লোকজনদের দিয়ে কেন কাজ করানো হল? বিএলওরা তৃণমূলের পার্টি অফিসে বসে ফর্ম দিয়েছে। বর্ধমান শহরের গোদা সহ বিভিন্ন জায়গায় এই ঘটনা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা সঞ্জয় খান বলেন, মৃত ভোটারদের নামেও ফর্ম বিলি হয়েছে। এটা করা উচিত হয়নি। কমিশনের ভুলেই অনেক মৃত ভোটারের নাম তালিকায় থেকে যাবে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন দলের নেতা বাগবুল ইসলাম এবং তন্ময় সিংহরায়। তাঁরা বলেন, বিরোধীরা ভাসা ভাসা অভিযোগ করেছে। যার কোনও ভিত্তি নেই। যাঁদের নাম মৃত বলে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের বাড়িতে বাড়িতে যাতে বিএলওরা আরও একবার যান, সেটা বলা হয়েছে।
বৈঠক শেষে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত বলেন, পূর্ব বর্ধমানে কাজ নিয়ম মেনে এগোচ্ছে। তবে, সফটওয়্যার সংক্রান্ত সমস্যা ছিল। তাছাড়া সব ঠিকভাবেই হয়েছে। অনেকে এখনও ফর্ম জমা করেননি। তা সংগ্রহ করার জন্য বলা হয়েছে। ১১ ডিসেম্বর মৃত, অনুপস্থিত বা স্থানান্তরিত হওয়া ভোটারদের তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হবে। রাজনৈতিক দলগুলি যে অভিযোগ করেছে, সেগুলিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চাপে পড়ে কোনও বিএলওর মৃত্যু হয়েছে, এমন তথ্য আসেনি।
কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এদিন দুই পর্যবেক্ষক জেলার এসআইআরের কাজ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ডিজিটাইজেশনের কাজে এই জেলা প্রথম থেকেই এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া মৃত ভোটারদেরও নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রেও জেলায় ভালোভাবে কাজ হয়েছে। বিএলওদের মৃত ভোটারদের তালিকা আগেই দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও মৃত ভোটারদের সম্পর্কে কমিশন তথ্য সংগ্রহ করে। তবে, বেশকিছু ফর্ম সংগ্রহ হয়নি। পর্যবেক্ষক জানিয়ে দেন, অসংগৃহীত ফর্ম দ্রুত সংগ্রহ করতে হবে।-নিজস্ব চিত্র