নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: জেসিবি দিয়ে কৃষি জমির মাটি কেটে তা রাস্তা তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছিল। তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন চাষিরা। আপত্তি তুলে তাঁরা তুমুল বিক্ষোভ দেখান। রবিবার সকালে আরামবাগের মাধবপুর পঞ্চায়েতের বায়রা কানপুর এলাকার ওই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে পুলিস এসে রাস্তা তৈরির কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়। তারপরই চাষিরা বিক্ষোভ বন্ধ করেন।
আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শিশির সরকার বলেন, রাস্তাটির বেশিরভাগ অংশ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। এদিন কানপুর এলাকায় কাজ চলছিল। চাষিরা রাস্তার কাজে মাটি দেবেন না বলে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে এব্যাপারে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। রাস্তাটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটিও হওয়া দরকার।
চাষিরা বলেন, আমরাও চাই রাস্তা হোক। কিন্তু, উর্বর মাটি রাস্তা তৈরির জন্য তুলে নেওয়া হলে চাষে তার খারাপ প্রভাব পড়বে। এলাকার জমিগুলি যথেষ্টই নিচু। মাটি তোলা হলে জমি নিচু হয়ে যাবে। তখন জল জমে যাবে। তাই জমি থেকে মাটি তুলতে আপত্তি জানানো হয়েছে। বিকল্প জায়গা থেকে মাটির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে বলে ঠিকাদার সংস্থাকে জানানো হয়েছে।
কানপুর এলাকার চাষি অর্ক মাউর বলেন, কৃষি জমি থেকে মাটি নেওয়া হবে না বলে আলোচনা হয়েছিল। ঠিক হয় অন্য জায়গা থেকে মাটি আনবে। কিন্তু এদিন দেখা যায় আমার কাকার জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। বাধা দিতে গেলে ঠিকাদার সংস্থার তরফে হুমকি দেওয়া হয়। চাষিরা প্রতিবাদ জানান।
আর এক চাষি সৌমেন রায় বলেন, রাস্তা হোক আমরাও চাই। সেই জন্য আমরা জমিও দিতে প্রস্তুত। কিন্তু, জমি থেকে মাটি তোলা হলে চাষে ক্ষতি হবে। তাই সংলগ্ন পুকুর থেকে মাটি কাটার জন্য আমরা প্রস্তাব দিই। কিন্তু, ঠিকাদার সংস্থা রাজি হয়নি। তারা জোর করে কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে নিতে থাকে। ফলে এলাকার চাষিরা সেখানে বিক্ষোভ দেখান। পরে পুলিস এসে রাস্তার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগের বলরামপুর থেকে গৌরহাটি পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির বরাত দিয়েছে হুগলি জেলা পরিষদ। বলরামপুর, কানপুর, খারোল, বাসুলিচক হয়ে গৌরহাটি যাচ্ছে। রাস্তাটি আগে বোল্ডার মোরামের ছিল। এখন সেটি পিচের করা হচ্ছে। কানপুর এলাকায় রাস্তাটির একাংশের কাজ দীর্ঘদিন ধরেই থমকে ছিল। এদিন সেখানে রাস্তা তৈরির কাজ করতে গেলে জমি থেকে মাটি তোলাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। ফলে ফের বন্ধ হয়ে যায় রাস্তার কাজ। বিষয়টি প্রশাসনিকস্তরে সমাধানের আর্জি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ, সোমবার এলাকার চাষিদের নিয়ে আরামবাগ ব্লক প্রশাসনের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।