Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়ায় পুরনো ৫০, ১০০ টাকার নোট নিতে আপত্তি

ছোট এক টাকার কয়েনের পর বাঁকুড়ার ব্যবসায়ীদের একাংশ পুরনো ৫০ ও ১০০ টাকার নোট নেওয়ার ব্যাপারে আপত্তি জানাচ্ছেন।

বাঁকুড়ায় পুরনো ৫০, ১০০ টাকার নোট নিতে আপত্তি
  • ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ছোট এক টাকার কয়েনের পর বাঁকুড়ার ব্যবসায়ীদের একাংশ পুরনো ৫০ ও ১০০ টাকার নোট নেওয়ার ব্যাপারে আপত্তি জানাচ্ছেন। সবজি বিক্রেতা থেকে মনোহারি দোকানের মালিকরা ওই নোট ক্রেতাদের কাছ থেকে নিতে চাইছেন না। অথচ কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত পুরনো নোট বাতিল করা হয়নি বলে ব্যাঙ্ক কর্তারা জানিয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই সক্রিয় হয়েছে প্রশাসন। বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা চালু নোট নেওয়া বাধ্যতামূলক বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। 

Advertisement

প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার তথা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক পুরনো ৫০, ১০০ টাকার নোট বাতিল বা প্রত্যাহার করেনি। ফলে ওই নোট বাজারে লেনদেন করার ব্যাপারে কেউ আপত্তি জানাতে পারেন না। ছোট এক টাকার কয়েনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। দেশের চালু নোট বা কয়েন নিতে অস্বীকার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কেউ অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
বাঁকুড়া জেলা হাটুরিয়া কৃষক সমিতির সম্পাদক তথা বাঁকুড়া পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দেবাশিস লাহা বলেন, পুরনো নোট যাতে সবজি বিক্রেতারা নেন, তারজন্য আমরা সকলের কাছে অনুরোধ জানাব।
বাঁকুড়া শহরের চকবাজার এলাকার এক সবজি বিক্রেতা বলেন, কিছুদিন আগেও আমরা পুরনো ৫০ ও ১০০ টাকার নোট নিচ্ছিলাম। কিন্তু জেলার পাইকারি বাজারে ওই নোট চালাতে সমস্যা হচ্ছে। মহাজনরা পুরনো নোট নিতে চাইছেন না। ফলে আমরাও ক্রেতাদের কাছ থেকে ওই নোট নিতে পারছি না। সবাই নিয়ম মেনে নোট লেনদেন করলে আমাদেরও তা নিতে কোনও অসুবিধা নেই।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকার বছর দশেক আগে তৎকালীন বড় নোট বাতিল করে। পরে ২০০০ টাকার নোট বাজারে চালু হয়। সেই নোটও ধীরে ধীরে বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। নোট বাতিলের পর সরকার ১০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নতুন নোট বাজারে চালু করে। পুরনো নোটগুলি ধীরে ধীরে বাজার থেকে অবলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তার জায়গায় নতুন নোট বাজারে চলছে। পুরনো ৫০, ১০০ বা অন্যান্য নোট আকারে কিছুটা বড়। নতুন নোট তুলনায় কিছুটা ছোট। বর্তমানে নতুন নোট লেনদেনে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন। ফলে দু’একজনের কাছে পুরনো নোট থাকলে তা লেনদেনের সময় আপত্তি জানানো হচ্ছে। এভাবে চললে আগামী দিনে কেউ আর পুরনো নোট নিতে চাইবেন না বলে ওয়াকিবহাল মহলের আশঙ্কা।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নতুন নোটের গুণগত মান অনেক খারাপ। দীর্ঘদিন বাজারে হাতবদল হওয়ার পরেও পুরনো নোটের মান ভালো থাকত। কিন্তু নতুন ১০, ২০, ৫০ টাকার নোট কিছুদিন যেতে না যেতেই তা নেতিয়ে যাচ্ছে। লেনদেনের সময় সামান্য মাঝ বরাবর ছিঁড়েও যাচ্ছে। ফলে নতুন নেতিয়ে যাওয়া নোটও ক্রেতারা নিতে চাইছেন না। অথচ ব্যবসার স্বার্থে সামগ্রী বিক্রির সময় আমরা সব নোট নিতে বাধ্য হচ্ছি। অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নোটের গুণগত মান ভালো করার দিকে নজর দেওয়া উচিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ