Bartaman Logo
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

গর্ভবতী নাবালিকা ভর্তি হলেই থানায় খবর দিতে নির্দেশ নার্সিংহোমগুলিকে

সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি এবার বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলির উপরেও কড়া নজরদারি শুরু করল স্বাস্থ্যদপ্তর। নাবালিকা প্রসূতি ভর্তি হলেই অবিলম্বে স্থানীয় থানাকে জানাতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গর্ভবতী নাবালিকা ভর্তি হলেই থানায় খবর দিতে নির্দেশ নার্সিংহোমগুলিকে
  • ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি এবার বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলির উপরেও কড়া নজরদারি শুরু করল স্বাস্থ্যদপ্তর। নাবালিকা প্রসূতি ভর্তি হলেই অবিলম্বে স্থানীয় থানাকে জানাতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, ঘাটাল মহকুমার সমস্ত বেরসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘাটাল মহকুমার নার্সিং হোম অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্রদীপ বেরা বলেন, আমরা এ নিয়ে সচেতন। একটি নার্সিংহোমে এক নাবালিকা প্রসূতি ভর্তি হয়েছিল। সেই তথ্য আমরা স্বাস্থ্যদপ্তরে জানিয়েছি। এ নিয়ে আমরা সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করব। সম্প্রতি ঘাটাল মহকুমাজুড়ে একাধিক সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে নাবালিকা প্রসূতি ভর্তির ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিন আগে ঘাটাল মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে একযোগে ছ’ জন নাবালিকা প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ভর্তি হওয়ার পরেই শোরগোল পড়ে। আধার কার্ড যাচাই করে দেখা যায়, ভর্তি হওয়া অধিকাংশ প্রসূতির বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের সিজার করে সন্তান প্রসবও করানো হয়। নিয়ম মাফিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সমস্ত তথ্য পুলিশ, জেলা স্বাস্থ্য ভবন ও মহকুমা শাসকের দপ্তরে জানায়। সেই ঘটনার রেশ ধরেই এবার মহকুমার সমস্ত বেসরকারি নার্সিংহোমগুলির ক্ষেত্রেও একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপ নিল স্বাস্থ্যদপ্তর।

Advertisement

ঘাটাল মহকুমায় নার্সিং হোমের সংখ্যা ৪১টি। স্বাস্থ্যদপ্তরের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, অনুমোদিত নার্সিংহোমে কোনো নাবালিকা সন্তানসম্ভবা হয়ে পৌঁছলে তা কোনো অবস্থাতেই চেপে রাখা যাবে না। ভর্তির যাবতীয় নথিপত্র ও বয়সের প্রমাণপত্র খতিয়ে দেখে দ্রুত নিকটবর্তী থানায় ও স্বাস্থ্যদপ্তরে জানাতে হবে। ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ছাড়াও মহকুমার ব্লক স্তরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং নার্সিংহোমগুলিতেও আকছার অল্পবয়সি কিশোরী প্রসূতিদের ভর্তি হওয়ার তথ্য উঠে আসছে। কোথাও পরিবারের উদ্যোগে নাবালিকার বিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও অল্প বয়সে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করছে। যার ফল অল্প বয়সে গর্ভধারণ। সরকারি স্তরে কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর মতো নানা প্রকল্প এবং স্কুলে স্কুলে কন্যাশ্রী ক্লাব গড়ে তোলা সত্ত্বেও সমাজ থেকে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর ব্যাধি নির্মূল করা যায়নি। আইন অনুযায়ী, নাবালিকা বিয়ে করলে বর ছাড়াও পুরোহিত, কাজি ও অভিভাবকদের রেয়াত করা হবে না। পকসো আইনের মতো কড়া ধারায় মামলা রুজু হবে। 
প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, বাল্যবিবাহ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং কড়া পদক্ষেপ ও আইনানুগ ব্যবস্থার মাধ্যমেই এই প্রবণতা রোখা সম্ভব। তবে চিকিৎসকদের একাংশের আশঙ্কা, নজরদারি ও পুলিশি তৎপরতা বাড়ার কারণে অনেক পরিবার গ্রেপ্তারের ভয়ে গর্ভবতী নাবালিকাদের নার্সিংহোম বা হাসপাতালে আনা বন্ধ করে দিতে পারে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব প্রক্রিয়া ধাক্কা খাবে এবং হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে বা বাড়িতে প্রসব করাতে গিয়ে মা ও সদ্যোজাতের জীবন সংশয় হতে পারে। তাই কঠোর আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার উপরেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ