Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেডিক্লেম কেলেঙ্কারিতে নাম থাকা নার্সিংহোম জড়িয়ে মাদক কাণ্ডেও

সিভিক ভলান্টিয়ারের মেডিক্লেম কেলেঙ্কারিতে নাম থাকা নার্সিংহোম জড়িত মাদককাণ্ডেও! সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার আড়ালে চলত মাদকের ব্যবসা এবং অবৈধভাবে সরকারি টাকা হাতানো

মেডিক্লেম কেলেঙ্কারিতে নাম থাকা নার্সিংহোম জড়িয়ে মাদক কাণ্ডেও
  • ১৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সিভিক ভলান্টিয়ারের মেডিক্লেম কেলেঙ্কারিতে নাম থাকা নার্সিংহোম জড়িত মাদককাণ্ডেও! সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার আড়ালে চলত মাদকের ব্যবসা এবং অবৈধভাবে সরকারি টাকা হাতানো। সম্প্রতি কালীগঞ্জের পলাশীর এই নামজাদা নার্সিংহোমের এমন কীর্তি সমানে এসেছে। কয়েক মাস আগে ওই নার্সিংহোমের মালিক আব্দুল সালাম মণ্ডল ওরফে বাবুকে গ্রেপ্তার করেছিল এসটিএফ। কয়েক কোটি টাকার হেরোইন বাজেয়াপ্ত হয়েছিল।‌ জানা যায়, নার্সিংহোম খুলে মাদক ব্যবসার কালো টাকা সাদা করত সে। গ্রেপ্তারির পরেও কিন্তু অবৈধভাবে টাকা কামানোর রাস্তা বন্ধ করেনি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। মাদককাণ্ডে মালিক গ্রেপ্তার হওয়ার পরেই সিভিক ভলান্টিয়ারের মেডিক্লেমের টাকা হাতায় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। সেই মেডিক্লেম কেলেঙ্কারির রিপোর্ট কালীগঞ্জ থানার তরফে জমা করা হয়েছে। 

Advertisement

মাসখানেক আগে পলাশীর বড় চাঁদঘর পঞ্চায়েতের খড়ের মাঠ এলাকার ওই নার্সিংহোমে সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়ির লোককে রোগী সাজিয়ে নার্সিংহোম ভর্তি করিয়ে মেডিক্লেমের টাকা হাতানোর বিষয়টি সামনে আসে। ইন্সুরেন্স কোম্পানি কালীগঞ্জ থানাকে চিঠি পাঠায়। দেখা গিয়েছে, শুধুমাত্র খাতায়-কলমে সিভিক ভলান্টিয়ারের আত্মীয়পরিজন সেই নার্সিংহোমে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে সেই অ্যাডমিশন হয়নি। অথচ খাতায়কলমে দেখা যাচ্ছে, নার্সিংহোমে সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়ির লোকজন ১০ থেকে ১২ দিন চিকিৎসার জন্য ভর্তি ছিলেন। ভুয়ো রোগীর নামেই লক্ষাধিক টাকা ক্লেম করা হয়েছে সরকারের কাছে। নার্সিংহোম থেকেই কালীগঞ্জ থানার ৫ জন সিভিক ভলান্টিয়ারের নামে ফলস মেডিক্লেম জমা পড়েছে।‌ তাঁদের মধ্যে চারজন পুলিসকে জানিয়েছেন যে, তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হননি। আর একজন সিভিক জানিয়েছেন যে, তিনি ১৫ দিন ম্যালেরিয়ার জন্য ভর্তি ছিলেন। যদিও নার্সিংহোমে ভর্তি হওয়ার আগে অন্য কোথাও চিকিৎসার প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি। রাজ্যজুড়েই মেডিক্লেমের এই কেলেঙ্কারির তদন্ত করছে সিআইডি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা স্বাস্থ্যবীমাকে ঘুরপথে আমদানির রাস্তা বানিয়ে ফেলছে নার্সিংহোমগুলো। 
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার অতিরিক্ত সুপার (গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ বলেন, রিপোর্ট জমা পড়েছে। সমস্ত দিক আমার খতিয়ে দেখছি। জানা গিয়েছে, ওই পাঁচজন সিভিক ভলান্টিয়ারের নামে মেডিক্লেমের টাকা উঠেছে এপ্রিল-মে মাস নাগাদ।‌ ঘটনাচক্রে তার মাস দেড়েক আগে মার্চ মাসে ওই নার্সিংহোমে মালিক নলদহর বাসিন্দা আব্দুল সালাম মণ্ডল ওরফে বাবুকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। পুলিসের নজরে থাকলেও, প্রমাণ না থাকায় ধরা পড়ত না সে। অথচ সেই ছিল কালীগঞ্জ, পলাশীপাড়া এলাকার হেরোইন ব্যবসার অন্যতম মাথা।‌ ধুবুলিয়া থানার হাঁসাডাঙ্গা এলাকা থেকে হাতেনাতে তাকে পাকড়াও করা হয়। সেই সঙ্গে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।‌ ধৃতদের কাছ থেকে মোট ৪ কেজি ৭০০ গ্রাম হেরোইন পাওয়া যায়।‌ যার বাজার মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। পুলিস মনে করে, হেরোইন কারবারের কালো টাকা সাদা করার জন্যই এই নার্সিংহোম খুলেছে বাবু। অতীতে তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোটা টাকার আর্থিক লেনদেনও পুলিসের নজর এসেছিল‌। সেই টাকা নার্সিংহোমের ব্যবসার টাকা বলেই দেখায় সে। এবার সেই নার্সিংহোমেই সিভিক ভলান্টিয়ারের মেডিক্লেমে কেলেঙ্কারি সামনে আসায় স্বাস্থ্যমহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ