Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বহুতল আবাসনের নীচে নার্সের দেহ, খুনের নালিশ পরিবারের

এক তরুণী নার্সের রহস্য মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়াল কাঁকসার গোপালপুরে। সেখানকার একটি বহুতল আবাসনে থাকতেন মৃত নার্স মন্দিরা পাল (২৪)।

বহুতল আবাসনের নীচে নার্সের দেহ, খুনের নালিশ পরিবারের
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর: এক তরুণী নার্সের রহস্য মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়াল কাঁকসার গোপালপুরে। সেখানকার একটি বহুতল আবাসনে থাকতেন মৃত নার্স মন্দিরা পাল (২৪)। ওই বহুতল আবাসনের নীচে মন্দিরার দেহ উদ্ধার হয়। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা মন্দিরা মলানদিঘির একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে কাজ করতেন। আবাসনের আটতলায় আরও কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে তিনি থাকতেন। এই মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Advertisement

মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বেঙ্গালুরুর একটি কলেজে নার্সিং নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন মন্দিরা। প্রায় এক বছর হল এখানে কাজে যোগ দেন। মন্দিরাদের সংসারের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা আর হল না। 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় কাঁকসা থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে। দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলা হয়। খবর দেওয়া হয় মন্দিরার বাড়িতে। রাতেই পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হন গোপালপুরে। এদিন সকালে মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করা হয়। মৃতার মাসতুতো দাদা নারায়ণ দাস বলেন, কাল সারারাত হাসপাতালে ছিলাম। বোনকে আমরা ছোট থেকে মানুষ করেছি। সর্বহারা হয়ে গেলাম। আমি চাই উচ্চমানের তদন্ত হোক। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ রয়েছে। তা খতিয়ে দেখা হোক। তিনি জানান, বাড়িতে ঝগড়াঝাটি কিছুই হয়নি। কোনো মানুষ এভাবে ঝাঁপ দিতে পারে না। জানা যায়, রিল বানাতে ভালোবাসতেন মন্দিরা। কোনো সমস্যা হলে দাদা নারায়ণকে জানাতেন। কিন্তু আচমকা কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তা বুঝতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। আত্মহত্যার প্রসঙ্গে মন্দিরার মামা মনোতোষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আত্মহত্যা করবে কেন? আমরা তদন্ত চাই।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মৃতের শরীরে সেরকম কোনো ক্ষতচিহ্ন পাওয়া যায়নি যা দেখে মনে হতে পারে যে, তাঁকে আঘাত করা হয়েছে। তবে উপর থেকে পড়লে যে সমস্ত চিহ্নগুলি চোখে পড়ে, যেমন কতটা দূরে গিয়ে পড়েছে এবং দেহেরে আকৃতি একটু ছোট হয়ে যাওয়া, পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার যে সমস্ত সাম্ভাব্য চিহ্ন সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক ভাবে পুলিশের ধারণা, উপর থেকে পড়েই নার্সের মৃত্যু হয়েছে। এখন কী কারণে বা কীভাবে উপর থেকে পড়ল, তা তদন্তের বিষয়। 
ওই আবাসনেই থাকেন একটি বেসরকারি নার্সিং হোমের নার্স বিম্বিয়া কুমারী। তিনি বলেন, আমি দশতলায় থাকি। সেদিন জেনারেল ডিউটিতে ছিলাম। ফিরে এসে দেখি, সবাই ওকে খোঁজাখুঁজি করছে। আটটা নাগাদ জানতে পারি, মন্দিরা নীচে পড়ে রয়েছে। 
ঘটনা নিয়ে কলেজের পক্ষ থেকে চিকিৎসক রাজর্ষি গুপ্ত জানান, ওই রাতে মন্দিরার নাইট ডিউটি ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে না আসার জন্য তাঁকে ফোন করা হলে ফোনে পাওয়া যায়নি। এরপর তাঁর খোঁজ শুরু হয়। রাত ন’টার দিকে মৃত অবস্থায় আবাসনের সীমানার বাইরে পাওয়া যায়। পুলিশকে দ্রুত জানানো হয়। কলেজের পক্ষ থেকে সব তথ্য পুলিশকে দেওয়া হচ্ছে।  
কাঁকসা থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এদিন বিকেল পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। যদিও পুলিশ স্বতস্ফূর্ত ভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ