


সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে চলছে বুলডোজার। এই পরিস্থিতিতে তারকেশ্বরবাসীর প্রশ্ন, এই এলাকাতেও অজস্র বেআইনি নির্মাণ গড়ে উঠেছে। এগুলির বিরুদ্ধে কবে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন?
তারকেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বেশ কয়েকটি বহুতল নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, পুর এলাকায় একাধিক দোকানপাট বিক্রি করে বেনামে মুনাফা লুটেছেন চেয়ারম্যান। গত ১৫ বছরে প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন সামন্ত ও বর্তমান চেয়ারম্যান উত্তম কুণ্ডুর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছে নেট দুনিয়া। বর্তমান চেয়ারম্যান সাধারণ সবজি ব্যবসায়ী থেকে এখন কয়েকশো কোটি টাকার মালিক। এই অবস্থায় উত্তম কুণ্ডু ও আরও কয়েকজন কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলেছেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীদের একাংশের দাবি, তারকেশ্বরে ব্যাঙ্ক অব বরোদার বিপরীতে, ৫, ৬, ৮, ১৩, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে একাধিক বেআইনি ভবন ও বহুতল নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও পদ্মপুকুরে খালের একাংশ দখল করে বহুতল নির্মাণ করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান। খালের উপর ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল ভূমি দপ্তর। এক রকম নকশা অনুমোদনের পর নির্মাণের সময় তা না মেনে ইচ্ছামতো ভবন তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, বহু জায়গায় বহুতল নির্মাণের অনুমতি ও নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
পুরসভা ও বেসরকারি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে ২০১৩ সালে একটি ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। বিতর্কিত ভবনটি নির্মাণ হলেও একাধিক মামলা রুজু হয়েছে সেটি নিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই ভবন থেকে পুর কোষাগারে অর্থ না ঢুকলেও তা গিয়েছে নির্দিষ্ট কয়েকজন নেতার পকেটে। এইসব ঘটনার সঙ্গে তারকেশ্বর পুরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান উত্তম কুণ্ডু, প্রাক্তন চেয়ারম্যান, পুরসভার কয়েকজন ইঞ্জিনিয়ার, কর্মী, প্ল্যানিং বিভাগের কর্মীরা জড়িত। তাঁদের সকলের বিরুদ্ধেই তদন্তের দাবি উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারকেশ্বরের এক বাসিন্দা বলেন, তারকেশ্বরে বাসস্ট্যান্ড, জয়কৃষ্ণবাজার, সুইমিংপুল ও পুরসভার সামনের অংশ সহ বহু সরকারি জায়গায় চেয়ারম্যান একাধিক দোকান কিনে পরে তা তিনগুণ দামে বিক্রি করেছেন। এই বিষয়ে পুর চেয়ারম্যান উত্তম কুণ্ডুকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, কোনো কাজের ক্ষেত্রেই অসঙ্গতি নেই। সমস্ত কাজ আইন অনুযায়ী করা হয়েছে। রাজনৈতিক অভিসন্ধি থেকেই মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন সামন্তর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি গণেশ চক্রবর্তী বলেন, কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে পুরসভায়। এ নিয়ে এলাকার বহু মানুষ আমাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। বিষয়টি আমরা বিধায়কের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনার চেষ্টা করছি।