নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া অশান্তি এবং এরই মাঝে উসকানিমূলক বক্তব্যের জেরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল সিপিআইএম নেতা লাহেক আলিকে। তাঁকে সোমবার নরেন্দ্রপুর থানা থেকে তোলা হয় বারুইপুর আদালতে। আর আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দাবি করেন, তাঁর গ্রেপ্তার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তিনি কোনও ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।
পুলিশের দাবি, গত ৫ জুলাই সূর্যপুর এলাকায় নাবালিকার দেহ উদ্ধার হওয়ার পর বিক্ষোভ চলাকালীন লাহেক আলি আন্দোলনকারীদের উসকানি দিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই বিক্ষোভে এক অটোচালক ইন্দ্রজিত মন্ডলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, টায়ারে আগুন লাগানো হয় এবং রাস্তা অবরোধের ফলে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়। আজ আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে লাহেক আলি বলেন, 'আমার গ্রেপ্তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কোনও হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না।' এদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, 'যারা হিংসা ও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার ঘটনায় উসকানি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত'। অন্যদিকে, সিপিআইএম এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম লাহেক আলির গ্রেপ্তারে তীব্র নিন্দা করে অভিযোগ করেন, 'প্রকৃত অপরাধীদের বদলে আন্দোলনকারীদেরই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে'। তাঁর কথায়, 'অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করে যাঁরা ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন, তাঁদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।' তিনি এই গ্রেপ্তারকে পরিকল্পিত বলেও দাবি করেন। দলের প্রবীণ নেতা সুজন চক্রবর্তীও এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রথম রাজনৈতিক নেতা লাহেক আলি। তিনি ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্র থেকে সিপিআইএম এর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।