নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গরান ও শাল গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি প্রাচীন ১২ ফুটের রথে অধিষ্ঠান করেন না জগন্নাথদেব। কাশীপুরের বহু ইতিহাসের সাক্ষী গোপীনাথ মন্দিরের এই রথের বিশেষ সিংহাসনে বসানো হয় জগন্নাথের পরিবর্তে মন্দিরের নারায়ণ শীলাকে। ভক্তদের উপস্থিতিতে রথযাত্রার দিন তা উত্তর কলকাতার বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে পৌঁছায় মাসির বাড়ি। সেখানে সাতদিন থাকে রথ। রথযাত্রার দিন রাতে নামগানের মধ্য দিয়ে ভক্তদের কাঁধে চেপে নারায়ণশীলা কাশীপুর রতনবাবু রোডে মন্দিরে এসে পৌঁছায়। উল্টোরথের দিন নারায়ণশীলাকে ফের রথে চাপিয়ে বিভিন্ন পথ পরিক্রমার পর ফিরিয়ে আনা হয় মূল মন্দিরে।
কাশীপুর গোপীনাথ মন্দিরের সেবায়েত তুষার দে বৃহস্পতিবার জানান, ‘রথের দিন সকালে বিশেষ পুজোপাঠের পর মন্দির চত্বরে ভক্তরা প্রথমে রশি টানেন। তারপর সন্ধ্যায় এলাকার মানুষ রথ উৎসবে অংশ নেন। লুট হয় কেজি কেজি বাতাসা। প্রথা মেনে রথে থাকা নারায়ণশীলাকে নানা সুগন্ধিযুক্ত সাদা ফুল দিয়ে সাজানো হয়। পরানো হয় রাজবেশ। ছড়ানো হয় আটরকম সুগন্ধি।’ মন্দির সূত্রে খবর, এই বিশেষ দিনে নানারকমের ভোগ নিবেদন করা হয়। সঙ্গে থাকে নানা মরশুমি ফল ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি। গোপীনাথ মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, গরান ও শালগাছের কাঠ দিয়ে তৈরি হলেও পরবর্তী সময় জারুল, জাম, সেগুন প্রভৃতি কাঠ দিয়ে নানা সময় রথের সংস্কার হয়েছে। ফি বছর জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার পর বিশেষ পুজোর পর মন্দিরের রথে রঙের কাজ হয়। শুদ্ধ কাপড় পরে রথে রঙের কাজ হয়। রথের গায়ে বিশেষ চোখ আঁকানো হয় নামী শিল্পীকে দিয়ে। এই বাড়ির এক সদস্য বলেন, ‘রঙের কাজ শেষ হলেই রথকে বিশেষ চাঁদোয়ার তলায় রাখা হয়। যাতে আবর্জনা না এসে পড়ে তার জন্য রথকে ত্রিপল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। রথের দিন মন্দিরের মাঠে আনা হয়।