নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় ‘ম্যাপিংহীন’ ভোটার সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ২৬ হাজার জন। ইনিউমারেশন ফর্মে এঁদের অধিকাংশের প্রোজেনি উল্লেখ নেই। তাই তাঁদেরকে শুনানিতে তলব করতে পারে নির্বাচন কমিশন। এই অবস্থায় শুক্রবার শিলিগুড়িতে সর্বদলীয় বৈঠক করেন বিশেষ পর্যবেক্ষক পঙ্কজ যাদব। বয়স্ক, অসুস্থ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভোটারদের জন্য শুনানিতে বিশেষ ব্যবস্থা করার দাবি এদিনের বৈঠকে জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
দার্জিলিং জেলার পাহাড় ও সমতলে প্রচুর ভোটার ‘ম্যাপিংহীন’। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় এমন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার। ইনিউমারেশন ফর্মে তাঁদের অধিকাংশ বাবা, মা, ঠাকুরদা, ঠাকুমা, দাদু ও দিদার নাম বা প্রোজেনি উল্লেখ করতে পারেননি। এঁদের ম্যাপিং হয়নি। আবার কোনও কোনও ভোটারের বাবা ও মা’র নামের বানানের মধ্যে সামান্য ফারাক মিলেছে। সবমিলিয়ে এমন ভোটারের সংখ্যা মাটিগাড়া কেন্দ্রে সর্বাধিক, ৩৩ হাজার। এছাড়া, দার্জিলিংয়ে ২৯ হাজার, শিলিগুড়িতে ২২ হাজার, কার্শিয়াংয়ে ১৫ হাজার ও ফাঁসিদেওয়ায় ১৩ হাজার ভোটার রয়েছেন। প্রতিবেশী কালিম্পং জেলায় এমন ভোটারের সংখ্যা সাড়ে ১১ হাজার। এঁদেরকেই শুনানিতে তলব করতে পারে নির্বাচন কমিশন।
জেলা প্রশাসনের এক কর্তা অবশ্য বলেন, ওই ভোটারদের সকলকে হয়তো শুনানিতে ডাকা হবে না। কারণ কিছু ভোটারের প্রোজেনির নামের ক্ষেত্রে ‘সিস্টেম এরার’ রয়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখে ভোটারদের প্রয়োজনীয় নথি কমিশনের অ্যাপে আপলোড করা হচ্ছে।
এদিন শিলিগুড়িতে সর্বদলীয় বৈঠকে এসআইআর নিয়ে সবর হয় তৃণমূল কংগ্রেস। বৈঠকের পর তৃণমূল নেতা সুপ্রকাশ রায় বলেন, অসুস্থ, বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভোটাররা শুনানিতে হাজির হতে পারবেন কি না সন্দেহ রয়েছে। তাঁদের হয়রানি করা যাবে না। প্রয়োজন পড়লে ওই ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি করতে হবে। এই দাবি বিশেষ পর্যবেক্ষকের কাছে জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে এসআইআর নিয়ে কমিশন বিএলওদের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। তা নিয়ে প্রতিবাদ করা হয়েছে।
বিজেপির মাটিগাড়া কেন্দ্রের বিধায়ক আনন্দময় বর্মন বলেন, তালিকা থেকে যাতে কোনও বৈঠক ভোটারের নাম বাদ না যায় সেই দিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। শুনানি নিয়েও ভয়ের কিছু নেই।.