সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: বেওয়ারিশ লাশ নিয়ে সমস্যায় পড়েছে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। মর্গে এধরনের ৮০টি মৃতদেহ জমে গিয়েছে। অথচ কুলারে সর্বাধিক ৪৮টি দেহ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এভাবে দেহ রাখায় পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজোর কয়েক দিন আগে থেকেই বেওয়ারিশ লাশ জমতে শুরু করে। এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। অতীতেও বেওয়ারিশ লাশ জমে গিয়ে পচা দুর্গন্ধ বের হওয়ায় সমস্যা জটিল আকার নিয়েছিল। মেডিকেল কলেজের তরফে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করার পর ধীরে ধীরে সেই লাশ সৎকারের ব্যবস্থা হয়। তবে পুজোর ছুটিতে ফের সেই সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান ডাঃ রাজীব প্রসাদ বলেন, এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ পঞ্চায়েত এলাকায় হওয়ায় বেওয়ারিশ লাশ নিয়ে সমস্যা স্থায়ী হয়ে উঠেছে।
কলকাতা সহ অন্যান্য যে মেডিকেল কলেজগুলি রয়েছে তা পুরসভা এলাকার মধ্যে হওয়ায় সেখানে এই সমস্যা নেই। তাছাড়া কলকাতা পুরসভার বেওয়ারিশ লাশ সৎকারের আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। খবর দিলেই তারা গাড়ি পাঠিয়ে লাশ নিয়ে গিয়ে সৎকার করে। কিন্তু পঞ্চায়েতের সেই পরিকাঠামো নেই। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজকে এই বেওয়ারিশ লাশ সৎকারের জন্য পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের ওপর নির্ভর করতে হয়।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশে এই দায়িত্ব পুলিশের। তবে শুনেছি, বেওয়ারিশ রাশ সৎকারের জন্য পুলিশকে আলাদা করে কোনও টাকা বরাদ্দ করা হয় না।
রাজীব প্রসাদ আরও বলেন, এখন ৮০টি বেওয়ারিশ লাশ জমে রয়েছে। এখানে ৪৮টি দেহ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এনিয়ে আমি জেলাশাসক, শিলিগুড়ি মহকুমা শাসক, পুলিশ-প্রশাসন, মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল, সুপার সহ সর্বস্তরে চিঠি লিখে বিষয়টি জানিয়েছি।
বেওয়ারিশ লাশ নিয়ে সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক। তিনি বলেন, হাসপাতালের অ্যাডিশনাল সুপার ডাঃ নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টির সমাধান করার জন্য। আশা করছি, শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে।