নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে নদীয়ার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কালীগঞ্জ বিধানসভায় ৫৪ হাজার সন্দেহভাজন ভোটার ছিল। যা সর্বোচ্চ হিসেবেই ধরা হচ্ছিল। কিন্তু বিগত এক মাসে তা ধাপে ধাপে কমতে থাকে। গত সপ্তাহ পর্যন্ত ৫১ হাজার সন্দেহভাজন ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে শুক্রবার সেই সংখ্যাটি হঠাৎ বেড়ে প্রায় ৫৯ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে। কীভাবে এ সম্ভব হল, তা বুঝতে পারছে না প্রশাসনও। কালীগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেফালি খাতুন বলেন, নির্বাচন কমিশন লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে ন্যক্কারজনক আচরণ করছে। বিশেষ রাজনৈতিক দলের কথায় আমাদের বিধানসভার ভোটারদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। শুক্রবার একজন শুনানিতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। আমরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করি। নির্বাচন কমিশন এখন নির্যাতন কমিশনে পরিণত হয়েছে।
শুধু কালীগঞ্জ বিধানসভা নয়, গত ৪৮ ঘণ্টায় গোটা নদীয়া জেলার ১৭টি বিধানসভাতেই প্রায় ৫০ হাজার নতুন সন্দেহভাজন ভোটারের নাম সামনে এসেছে। কালীগঞ্জের পাশাপাশি করিমপুর, পলাশীপাড়া ও চাপড়ায় খসড়া তালিকার তুলনায় এই সংখ্যা বেড়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় যাদের সন্দেহভাজন ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, তাদের বাইরে অন্য ভোটারদেরও কি এবার নোটিস দিয়ে ডাকা হচ্ছে ?
নদীয় জেলায় এই মুহূর্তে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি আছে এমন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৫ লক্ষ ২৫ হাজার। সংখ্যালঘু এলাকাতেই সন্দেহভাজন ভোটার বেশি হচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিভিন্ন বিধানসভায় শুনানির জন্য ডাকা হলেও পূর্ণাঙ্গ শুনানি এখনও শুরু হয়নি। এদিকে জানুয়ারির মধ্যেই শুনানি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলার এখনও পর্যন্ত ২ লক্ষ ৮১ হাজার আনম্যাপড ভোটারের মধ্যে ১ লক্ষ ৭০ হাজার ভোটারের শুনানি হয়েছে। এখনও এক লক্ষের বেশি আনম্যাপড ভোটারের শুনানি বাকি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি থাকা ভোটারদেরও শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। সবমিলিয়ে এসআইআরে নোটিস ইস্যু হবে ৮ লক্ষ ৩ হাজার ৩০২ জন ভোটারের নামে।
শুক্রবার সিএমএস স্কুলে শুনানিতে আসেন কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি অয়ন দত্ত। তিনি বলেন, খসড়া তালিকায় নাম ছিল। কাগজপত্র জমা করেছিলাম। দু’ দিন আগে বিএলওর থেকে জানতে পারি যে, বাবার নাম মিসম্যাচ করেছে। যার জন্য আমি শুনানিতে এসেছিলাম। এটা মানুষকে হয়রান করা ছাড়া আর কিছুই না। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে পলাশীপাড়া বিধানসভায় সন্দেহভাজন ভোটার ছিল ৫২ হাজার। বর্তমানে পলাশীপাড়া বিধানসভায় সন্দেহভাজন ভোটার ৫৫ হাজার। তেহট্ট বিধানসভায় ৩৫ হাজার, করিমপুর বিধানসভায় ৪১ হাজার, নাকাশিপাড়া বিধানসভায় ৫০ হাজার, চাপড়া বিধানসভায় ৪৭ হাজার, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভায় ৩১ হাজার ভোটারকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা।