নিতাই সাহা, সিউড়ি: স্থায়ী শিক্ষকা একজনই। তিনি আবার প্রধান শিক্ষিকা। সামলাতে হয় মিড-ডে মিল থেকে শুরু করে স্কুলের যাবতীয় প্রশাসনিক কাজকর্ম। দু’জন অতিথি শিক্ষিক দিয়ে পড়াতে হচ্ছে ছাত্রীদের। সমস্যা মোকাবিলায় অভিনব পন্থায় ক্লাস চলছে লাভপুর ব্লকের উজ্জ্বলপুর গ্রামের চৌহাট্টা জুনিয়র গার্লস হাইস্কুলে।
বিষয়ভিত্তিক ক্লাসের কোনও বাঁধাধরা রুটিন নেই। সরকারি স্কুলে পড়াশোনা চলছে রীতিমতো কোচিং সেন্টারের ধাঁচে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একাধিক ক্লাসের পড়ুয়াদেরএকসঙ্গে বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হচ্ছে। স্কুলের তরফে জানা গিয়েছে, এক একটি ক্লাস প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় ধরে চলে। পড়ুয়াদের একাধিক বিষয় পড়ানো হয়। তাতে খানিকটা সমস্যা হলেও পড়াশোনার ক্ষেত্রে অবশ্য কোনও ভাটা পড়েনি বলে দাবি স্কুল কর্তৃপক্ষের।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা অপর্ণা হাজরা জানান, শিক্ষক সংখ্যা অপ্রতুল হওয়াতেই এই সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘আমি একমাত্র স্থায়ী শিক্ষিকা। দু’জন অতিথি শিক্ষক রয়েছেন। ফলত, আমাকেই বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে পড়াশোনার দিকটি সামলাতে হয়। সেইসঙ্গে মিড-ডে-মিল সহ স্কুলের আনুসাঙ্গিক কাজ থাকে। সব কিছু সামাল দিতে গিয়ে রুটিন মেনে ক্লাস করানো সম্ভব হয় না। তাই কোচিং সেন্টারের ধাঁচে পড়াশোনা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পড়ুয়ারাও তাতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।’
সিউড়ি থেকে লাভপুর যাওয়ার পথে প্রধান সড়কের পাশেই ওই স্কুলটি। সুবিশাল জমিতে একাধিক ক্লাসরুম সহ কিচেন শেড টয়লেট ব্লক সবই রয়েছে। যদিও স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা হাতে গোনা। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চারটি ক্লাস মিলিয়ে বর্তমানে ছাত্রী সংখ্যা মাত্র ২১ জন। পঞ্চম শ্রেণিতে মাত্র ৮ জন। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পাঁচজন। অষ্টম শ্রেণিতে ৩ জন।পড়ানোর জন্য রয়েছেন মাত্র তিনজন শিক্ষক-শিক্ষিকা। তাঁদের মধ্যে দু'জন অতিথি শিক্ষক। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি ক্লাসের পড়ুয়াদের আলাদাভাবে পড়াশোনা করানো অসম্ভব হয়ে উঠেছে। তাই, পঞ্চম এবং সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়াদের একটি ক্লাস রুমে বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। অন্যদিকে, ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের অপর ক্লাসরুমে বসানো হয়৷ সকাল থেকে একটানা প্রায় দেড় ঘণ্টা করে দুই ধাপে দু'জন অতিথি শিক্ষক তাদের বাংলা, সংস্কৃত সহ বিজ্ঞান বিভাগ পড়ান। অন্যদিকে, স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ইংরেজি, ভূগোল ও ইতিহাস পড়ান। সময়ের অভাবে বেশিরভাগ সময় চারটি শ্রেণির পড়ুয়াদের একই ক্লাসরুমে বসিয়ে তাঁকে পড়াতে হয়।
সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী বর্ষা দাস বৈরাগ্য বলে, ‘এভাবে পড়াশোনা করতে ভালোই লাগে। শিক্ষক-শিক্ষিকারা যত্নসহকারেই পড়ান। তবে, আমাদের স্কুলে আরও একজন শিক্ষক হলে ভালো হতো।’ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার কথায়, ‘পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় বহু অভিভাবক তাঁদের বাচ্চাদের এই স্কুলে পাঠাতে চান না।পড়ুয়া সংখ্যা তলানিতে এসে পৌঁছেছে। সেক্ষেত্রে, শিক্ষক অপ্রতুলতার কথা জানিয়ে একাধিক সময় তিনি জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের দ্বারস্থ হয়েছেন। যদিও সমস্যার সমাধান এখনও হয়নি।’ এবিষয়ে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক সুজিত সামন্ত বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। সরকারি নিয়মের মধ্যে কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায় সেটা দেখা হবে।’