Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘মৃত্যুহীন’ বুথের সংখ্যা কমে ১৭! কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব তৃণমূল

রাজ্যের মোট দু’হাজারেরও বেশি বুথে কোনও ‘মৃত’ ভোটার নেই। সেই তালিকায় রয়েছে নদীয়া জেলাও। জানা গিয়েছে,  জেলায় নাকি এরকম ‘মৃত্যুহীন’ বুথের সংখ্যা ১৩০টি।

‘মৃত্যুহীন’ বুথের সংখ্যা কমে ১৭! কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব তৃণমূল
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: রাজ্যের মোট দু’হাজারেরও বেশি বুথে কোনও ‘মৃত’ ভোটার নেই। সেই তালিকায় রয়েছে নদীয়া জেলাও। জানা গিয়েছে,  জেলায় নাকি এরকম ‘মৃত্যুহীন’ বুথের সংখ্যা ১৩০টি। অর্থাৎ, এই সমস্ত বুথে এখনও পর্যন্ত মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত, ডুপ্লিকেট ভোটার পাওয়া যায়নি। বিষয়টি চাঞ্চল্যকর মনে হয়েছিল সংশ্লিষ্ট সকলের। কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ছবিটা বদলে গেল। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই ‘মৃত্যুহীন’ বুথের সংখ্যা জেলায় কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৭টি’তে! এই সংখ্যা আরও কমতে পারে বলেই মনে করছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। কারণ, এসআইআরের ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজে শেষ হতে এখনও বেশ কিছুদিন বাকি। তার মধ্যে আরও কিছু বুথে এই নিশ্চিতভাবে বাদ যাওয়া ভোটার পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। এদিকে, একশো শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন কমিশনের এই তথ্য প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল। 

Advertisement

বাংলায় সর্বশেষ নির্বাচন অনুযায়ী জেলায় সাড়ে চার হাজারের বেশি বুথ রয়েছে। প্রতি বুথে বিএলও›রা ফর্ম বিলি, ফর্ম সংগ্রহ, ডিজিটাইজেশন, বাদ পড়া ভোটারদের শনাক্তকরণের কাজ করছেন। সেই কাজ এখন শেষ পর্বে। ৪ ডিসেম্বর এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন সময়সীমা বাড়িয়েছে। বর্তমানে ফর্ম জমা নেওয়া এবং কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে এবং খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৬ ডিসেম্বর। অর্থাৎ একশো শতাংশ কাজ শেষ করার জন্য এখনো নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় রয়েছে। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অনলাইন আপডেটেশনের সময় যাঁদের ফর্ম দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কারা মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত, ডুপ্লিকেট এবং ফর্ম জমা করতে অনিচ্ছুক তাঁদের চিহ্নিত করতে হয় বিএলও’দের। যাদের অসংগ্রহযোগ্য বা আনকলেক্টেবল ফর্ম বলা হয়। সেইমতো বিএলও অ্যাপেও তা প্রতিফলিত হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী কোনও ভোটারের বাড়িতে তিনবার যেতে হবে বিএলও’দের। তারপরেও যদি সেই ভোটারের হদিশ না পাওয়া যায়, তাহলে তাকে স্থানান্তরিত বা অনুপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত করতে পারবেন। তার আগে পর্যন্তও সেগুলো ‘অসংগ্রহযোগ্য’ অবস্থা থাকে। এতদিন ধরে অধিকাংশ বিএলও’রা ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ করছিলেন। অনেক বিএলও রয়েছেন, যাঁরা শেষের দিকে এই চিহ্নিতকরণের কাজ করছেন। সেই কারণে নদীয়া জেলাতেও বিগত কয়েকদিনে মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত, ডুপ্লিকেট ভোটারের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়তে দেখা গিয়েছিল। জেলায় মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ৪৫টি বুথে ৮০ শতাংশের কম ডিজিটাইজেশনের কাজ করেছেন বিএলও’রা। চাপড়ার তৃণমূলের বিধায়ক রুকবানুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে এসেছি। কমিশন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতদুষ্ট। বিএলও’রা এখনও ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ করছেন। তাঁদের হাতে বাড়তি সময়ও রয়েছে। কিন্তু তার আগেই এইভাবে তথ্য প্রকাশ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো ছাড়া কিছুই নয়।’ কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, ‘এসআইআর করা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা ক্রমশ প্রকাশ পাচ্ছে। আমরা প্রথম থেকেই এর সমর্থন করে এসেছি। কিন্তু তারপরও তৃণমূলের তরফ থেকে নীচু তলায় এই প্রক্রিয়াকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ