নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: কাল, ২এপ্রিল থেকে জলপাইগুড়ি শহরে টোটো নিয়ন্ত্রণে নামার কথা পুরসভার। ঠিক তার আগে একই টেম্পোরারি আইডেন্টিফিকেশন নম্বরে(টিন) শহরে একাধিক টোটো চলছে বলে অভিযোগ তুলে পুর কর্তৃপক্ষের অস্বস্তি বাড়াল তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন। তাদের বক্তব্য, টোটো চিহ্নিতকরণে ওই নম্বর দিয়েছে পুরসভা। ফলে কীভাবে একই নম্বর একাধিক টোটোয় দেখা যাচ্ছে, তা পুর কর্তৃপক্ষই বলতে পারবে। রাজ্যের শাসকদলের শ্রমিক সংগঠনের এই মন্তব্যে বিড়ম্বনা বেড়েছে তৃণমূল পরিচালিত জলপাইগুড়ি পুরবোর্ডের। আইএনটিটিইউসির অভিযোগ সরাসরি উড়িয়ে দিতে পারেনি পুর কর্তৃপক্ষ। সোমবার জলপাইগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, পুরসভা একই নম্বর একাধিক টোটোচালককে দিয়েছে, এমনটা নয়। হতে পারে, পুরসভা একটি টোটোর জন্য যে নম্বর দিয়েছে তা জাল করে অন্য টোটোতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোনটি জাল তা যাচাই করা হবে স্ক্যানার দিয়ে। ধরা পড়লে টোটো বাজেয়াপ্ত হবে।
শুধু আইএনটিটিইউসি নয়, গ্রাম ও শহরের টোটো ভাগ করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কংগ্রেস ও সিপিএম। এমনটা হলে রাস্তায় নেমে আন্দোলন হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। কংগ্রেসের বক্তব্য, যানজট নিয়ন্ত্রণে টোটোর রুট নির্দিষ্ট করুক পুরসভা। প্রয়োজনে ওয়ানওয়ে চালু করা হোক। সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটুর বক্তব্য, গ্রাম-শহরের টোটো ভাগ করে গরীব টোটোচালকদের রুজি-রুটি বন্ধের চেষ্টা হলে তারা আন্দোলনে নামবে। ২ এপ্রিল থেকে নম্বরবিহীন টোটো নিয়ে ধরপাকড় অভিযান শুরুর আগে সাতদিন শহরে মাইকিং চলবে বলে পুরসভা জানিয়েছিল। তবে সেই মাইকিং হয়নি বলে বিভিন্ন দলের শ্রমিক সংগঠনের দাবি। ফলে কাল থেকে আদৌও টোটো নিয়ন্ত্রণে অভিযান শুরু হবে কি না, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়। এর আগেও টোটো চলাচলে কড়াকড়ি করতে গিয়ে চাপের মুখে পিছু হটতে হয়েছে জলপাইগুড়ি পুরসভাকে।
ভাইস চেয়ারম্যানের মন্তব্য, টোটো নিয়ে বৈঠকের সময় শ্রমিক সংগঠনগুলিকে ডাকা হয়েছিল। তখন তারা পুরসভার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত পোষণ করে। এখন অন্য কথা বললে কীভাবে হবে? তাঁর দাবি, ২এপ্রিল থেকে শহরে টোটো নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে। ওইদিন থেকেই তা কার্যকর করা হবে। পুলিস-প্রশাসনকে বিষয়টি আমরা জানিয়ে দিয়েছি। শহরে যানজট নিয়ন্ত্রণে এটা ছাড়া কোনও বিকল্প নেই।
এদিকে, টোটো নিয়ে পুরসভার সিদ্ধান্তের ঘুরিয়ে বিরোধিতা করে কিছু বিকল্প প্রস্তাব সহ চিঠি দিয়েছিল আইএনটিটিইউসি। তার পরিপ্রেক্ষিতে পুরসভা এখনও উত্তর না দেওয়ায় কিংবা আলোচনায় বসতে না চাওয়ায় ক্ষুব্ধ সংগঠনের নেতৃত্ব। আইএনটিটিইউসির জলপাইগুড়ি টাউন কমিটির সভাপতি পুণ্যব্রত মিত্রের অভিযোগ, শুধু যে একই নম্বরের একাধিক টোটো চলছে তা নয়, ময়নাগুড়ি, হলদিবাড়ি এলাকার টোটোতেও দেখা যাচ্ছে জলপাইগুড়ি পুরসভার দেওয়া ওই নম্বর প্লেট। পুরসভা বলেছিল, একজন একটি টোটোর জন্যই নম্বর পাবেন। কিন্তু আমাদের কাছে খবর, যাঁরা ৩০-৪০টি টোটো ভাড়া খাটান, তাঁরা সমস্ত টোটোর জন্য নম্বর পেয়ে গেলেন কীভাবে?