সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: লরিচালক ও খালাসির ছদ্মবেশেই শিলিগুড়ি শহরে রেকি করে নুহ গ্যাং। চম্পাসারির জোড়া এটিএম লুট কাণ্ডের তদন্তে নেমে এমনই অনুমান করছে পুলিসের একাংশ। এদিকে, জুয়েলারি দোকানে ডাকাতির ঘটনায় অধরা দুষ্কৃতীদের নাগাল পায়নি পুলিস। এনিয়ে আতঙ্কিত স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। তাঁদের একাংশ নিরাপত্তার জন্য আর্মস লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে চাইছেন।
টানা পাঁচদিন ধরে জোড়া এটিএম লুটের কাণ্ড নিয়ে তদন্ত চালিয়ে পুলিস চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পেয়েছে। পুলিস সূত্রে খবর, হরিয়ানার নুহ জেলায় ওই গ্যাংয়ের ডেরা। গ্যাংয়ের সদস্যদের অধিকাংশ গাড়ি চালানোয় পটু। ওরা মূলত লরিচালক ও খালাসির বেশে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে রেকি করে। এলাকার সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করার পর এটিএম লুটের অপারেশন চালায় গ্যাংয়ের সদস্যরা। এরা বিভিন্ন ট্রাক টার্মিনাস, ধাবা ও লাইন হোটেলে ঘাঁটি গাড়ে। সংশ্লিষ্ট গ্যাং শিলিগুড়িতেও একইভাবে অপারেশন চালায় বলেই মনে হচ্ছে। প্রধাননগর থানার এক পুলিস অফিসার বলেন, এটিএম লুটের সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতীরা এখানে লরিচালক ও খালাসির বেশে এসেছিল বলেই মনে হচ্ছে।
গত বুধবার গভীর রাতে চম্পাসারির একটি কাউন্টারের জোড়া এটিএম থেকে ১০ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা লুট করে দুষ্কৃতীরা। অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে পুলিস পাকড়াও করেছে। ধৃতরা হরিয়ানার নুহর বাসিন্দা। শিলিগুড়ির ডেপুটি পুলিস কমিশনার (পশ্চিম) বিশ্বচাঁদ ঠাকুর অবশ্য বলেন, এটিএম লুটের আগে ধৃতরা এখানে এসেছিল কি না, জানা যায়নি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ধৃতরা এ ধরনের অপরাধে অভ্যস্ত।
এদিকে, হিলকার্ট রোডে সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত অধিকাংশই অধরা। অভিযুক্তদের খোঁজে পুলিসের একাধিক টিম বিভিন্ন রাজ্যে পাড়ি দিলেও তারা এখনও সাফল্য পায়নি। এই অবস্থায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে চাইছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের একাংশ। বঙ্গীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির হিলকার্ট রোড শাখার সভাপতি বিজয় গুপ্তা বলেন, ওই ডাকাতির ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তায় অভাব বোধ করছি। তাই আর্মস লাইসেন্সের জন্য পুলিস ও প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাব। এখন সংগঠনের অনেকেই এমন ভাবনাচিন্তা করছেন। একইসঙ্গে হিলকার্ট রোড, বিধান মার্কেট, ক্ষুদিরামপল্লির সোনাপট্টি প্রভৃতি এলাকায় পুলিসি টহলদারি বাড়ানোর দাবিও তোলা হয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরে বর্তমানে ৪০০টির বেশি আর্মস লাইসেন্স রয়েছে। সোনার দোকানে ডাকাতির পর কয়েকজন ব্যবসায়ী লাইসেন্স নেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন। তবে কেউ এখনও আবেদন করেননি। আবেদন করলে আইন অনুসারে তা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, শহরের নজরদারি ব্যবস্থা আরও চাঙ্গা করা হচ্ছে। বর্তমানে ২৩৬টি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। নতুন করে আরও ২০০টি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।