Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নতুন করে আতশকাচের তলায় সেই খাগড়াগড়!

নতুন করে আতশকাচের তলায় সেই খাগড়াগড়!
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ২০১৪ সালে দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দিন বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল বর্ধমানের খাগড়াগড়। তার রেশ শুধু বর্ধমানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। জেএমবি জঙ্গিরা পুলিসের চোখে ধুলো দিয়ে দক্ষিণবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র বর্ধমান শহরে ডেরা বেঁধেছিল। তারপর ১০ বছর কেটে গিয়েছে। খাগড়াগড় থেকে এখনও নজর সরেনি গোয়েন্দাদের। এই এলাকায় আগের থেকে বহু জনবসতি বেড়েছে। রেললাইনের ধার পর্যন্ত বাড়ি তৈরি হয়ে গিয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু বহিরাগত এখানে এসে বসবাস করছে। অনেকে বাড়ি ভাড়া নিয়ে রয়েছে। এই এলাকায় কেউ বাড়ি ভাড়া নিলে পুলিসকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ওই পরিবারগুলির পরিচয়পত্রও জমা নেওয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু অনেকেই তা করছে না বলে অভিযোগ। এক আধিকারিক বলেন, খাগড়াগড়ে জনবসতি অনেক বেশি। বিভিন্ন ভাষাভাষির লোক এখানে রয়েছে। অনেকে কাজের জন্য বাড়ি ভাড়া নিয়ে রয়েছে। সবার উপর নজরদারি চালানো সম্ভব নয়। খাগড়াগড় এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, এই এলাকায় জমির দাম অনেক বেড়ে গিয়েছে। কয়েক বছরে বহু নতুন বাড়ি তৈরি হয়েছে। অনেককেই এলাকার বাসিন্দারা চেনেন না। কোথায় কী কাজ হচ্ছে তা সবার পক্ষে জানা সম্ভব নয়। আর এক আধিকারিক বলেন, ২০১৪ সালের মতো ঘটনা যাতে না হয় তারজন্য নজরদারি রয়েছে। এলাকায় নতুন কারা এসেছে তা নিয়েও খোঁজ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। 
Advertisement
স্থানীয়রা বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে এই এলাকার বদনাম হয়ে গিয়েছে। তাই এলাকার বাসিন্দারাও চান না এই খাগড়াগড়ে আর কোনও অপরাধমূলক ঘটনা হোক। গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, খাগড়াগড় জেএমবি’দের এপিসেন্টার হয়ে উঠেছিল। জঙ্গিরা ঘরভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন থাকলেও কেউ তা টের পায়নি। বাড়ির মালিকও কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি। তাঁকে সেই সময় টানা ২০দিন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা জেরা করেছিলেন। কিন্তু অসঙ্গতিপূর্ণ কোনও কিছু না পাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি সেই সময় সিজার লিস্টে সই করেছিলেন। তিনি সাক্ষী দেওয়ায় জঙ্গিদের শাস্তি দিতে গোয়েন্দাদের সুবিধা হয়। ওই ঘটনার পর বাড়ির মালিকদের বলা হয় যাঁরা বাড়িভাড়া নিচ্ছেন তাঁরা কী কাজ করেন সেদিকে নজরদারি চালান। বর্ধমান-১ ব্লকের তৃণমূল নেতা নুরুল হাসান বলেন, এলাকার বাসিন্দারা সজাগ রয়েছেন। এলাকায় কেউ অপরাধমূলক কাজ করার চেষ্টা করলে পুলিসকে খবর দেওয়া হবে। এই এলাকার ভাবমূর্তি যাতে নষ্ট না হয় তা দেখা হবে। এই এলাকায় আগের থেকে অনেক জনবসতি বেড়েছে। সবাইকে চেনা সম্ভব নয়। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, সব জায়গাতেই নজরদারি রয়েছে। বাড়ি ভাড়া দেওয়ার আগে পরিচয়পত্র জমা রাখা বাধ্যতামূলক।
সম্পর্কিত সংবাদ