Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

নাটকের আলোচনা: অন্ধকারের উৎস হতে

নাটকের আলোচনা: অন্ধকারের উৎস হতে
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
শঙ্খ এবং উলুধ্বনিতে মঞ্চের পর্দা খুলে গেল। দেখা গেল হাতের উপর হাত। মালা চন্দনে সজ্জিত হয়ে রয়েছেন বর এবং কনে। চলছে বিয়ের জমজমাট আসর। মন্ত্রোচ্চারণ হয় দুই হাতের উপর পুষ্প বৃষ্টি করে। তারপর শুভদৃষ্টির পালা। যাঁদের চোখে জীবনভর আলোর রেশ নেই তাঁদের শুভদৃষ্টি কীসের? স্পর্শ, গন্ধ, শব্দ— এই তিন অনুভূতি দিয়ে জগৎকে চিনতে পারেন দৃষ্টিহীনরা। স্পর্শের অনুভূতিতে শুভদৃষ্টির পর্ব মেটে। একটা ছোট ঘটনা দিয়ে সমাজের দৃষ্টিহীন মানুষদের বাস্তবিক জীবনকে তুলে ধরা হয়েছে মঞ্চে। তাঁদের জীবনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার মালা গাঁথা হয়েছে নাটক ‘চোখের আলো’য়। 
Advertisement
রাজা ফাইজা আলমের লেখা ও পরিচালিত এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র স্বপ্নদীপ। দৃষ্টিহীন যে তরুণ উচ্চমাধ্যমিকে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করে। ক্রমে তার বড় হয়ে ওঠার চেষ্টা ও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আকাঙ্ক্ষাকে পরিচালক মঞ্চে সুচারু ভাবে দেখিয়েছেন। স্বপ্নদীপ নিজের স্বপ্ন সফল করতে লড়াই করেছে। আত্মনির্ভর হয়ে বিদেশে গিয়েছে। তার প্রাণের সঙ্গী খুশিও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে স্ট্রাগল করেছে। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে অন্য কারও জীবনসঙ্গী হতে হয়েছে। এই নাটকে বহু চরিত্র রয়েছে। কেউ হকার, কেউ উকিল, কেউ সাংবাদিক। তাদের প্রাপ্তি, অভিযোগ, অধিকারের কথাও রয়েছে। 
এই নাটকের কুশীলবরা অধিকাংশই ছিলেন দৃষ্টিহীন। বাকিরা বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন। নাটক দেখতে গিয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকেছি মঞ্চে। কী দক্ষতার সঙ্গে তাঁরা অভিনয় রপ্ত করেছেন! নাট্যকার ও পরিচালক রাজা ফৈজা আলমও দৃষ্টিহীন। তাঁর দক্ষতাও কুর্ণিশযোগ্য। দেবাশিস দাস, মিনারা খাতুন, সুজাতা সিংয়ের অভিনয় উল্লেখযোগ্য। 
নাটকের মঞ্চ পরিকল্পনা করেছেন দেবাঞ্জলী কুণ্ডু। আলোকসম্পাতে দেবপ্রসাদ ঘোষ। আবহে সোমনাথ পানি। নাটকে আবহ প্রস্তাবনা নিয়ে আরও মহলার প্রয়োজন আছে। এই নাটকের মাধ্যমে দৃষ্টিহীনদের পাশাপাশি বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্নদের জন্য কয়েকটি দাবিকে সামনে রাখা হয়েছে। সমাজে তাদের জন্য চাই সঠিক পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান, সুস্থ পরিবেশ ও বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার।
তাপস কাঁড়ার 
সম্পর্কিত সংবাদ