নয়াদিল্লি: জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (এনএসএ) অপব্যবহারের জন্য উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে মঙ্গলবার তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি সম্ভলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে অভিযুক্ত মুল্লা আফরোজকে এই আইনের আওতায় বেআইনিভাবে আটকে রাখার জন্য সরকারকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে শীর্ষ আদালত। এদিন সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, পুলিশি হেপাজতে স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে কাউকে সতর্কতামূলকভাবে আটক করা যায় না। ২০২৫ সালে এনএসএ-তে মুল্লা আফরোজকে আটক করেছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। আর সেই সিদ্ধান্তকে বহাল রেখেছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এদিন হাইকোর্টের রায় খারিজ করে মুল্লা আফরোজকে এনএসএ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
মঙ্গলবার চোখাচোখা ভাষায় উত্তরপ্রদেশ সরকারকে বিদ্ধ করেছে বিচারপতি দীপংকর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ। উত্তরপ্রদেশ সরকার ‘তাদের হাতে থাকা নৃশংস ক্ষমতাকে বেআইনিভাবে প্রয়োগ’ করেছে বলে জানিয়েছে আদালত। এই আটককে কোনোভাবেই আইনি আচরণ হিসাবে ব্যাখ্যা করা যায় না বলে বিচারপতিরা মন্তব্য করেছেন।
২০২৪ সালে আদালতের নির্দেশে উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে শাহি জামা মসজিদের সমীক্ষা করতে গিয়েছিলেন আধিকারিকরা। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোষ্ঠী সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায় সম্ভলে। তাতে মৃত্যু হয় ৪ জনের। জখম হন অনেকে। ঘটনার ৫৪ দিনের মাথায় মুল্লা আফরোজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত বছর ১৩ অক্টোবর তাঁকে জামিন দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এরপরেই এনএসএ-তে তাকে আটক করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এলাহাবাদ হাইকোর্ট সেই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিল। এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যান আফরোজ। ৮ সেপ্টেম্বর এই মামলার রায়দানের কথা ছিল।