Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নেপাল সীমান্তে সিমবক্স সহ ধৃত ১, উদ্ধার দ্বৈত নাগরিক পরিচয়পত্র

নেপাল সীমান্তে সিমবক্স সহ ধৃত ১, উদ্ধার দ্বৈত নাগরিক পরিচয়পত্র
  • ১২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা নকশালবাড়ি: বাংলাদেশে অস্থির পরিস্থিতি। সীমান্তের গ্রামে টানাপোড়েন। এর মাঝেই নেপাল সীমান্তে সিমবক্স উদ্ধার। শুক্রবার রাতে সুকনা আর্মি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর আধিকারিকরা অভিযান করেন। আর তাতেই সাফল্য মেলে। খড়িবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় নেপালের মেচির এক বাসিন্দাকে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের কাছে দুই দেশের পরিচয়পত্র মিলেছে। নেপালের পরিচয়পত্রে সে যজ্ঞনিধি পাঠক। ভারতীয় পরিচয়পত্রটি অশোক ছেত্রী নামে বানিয়েছিল সে। ধৃতের থেকে আটটি কোম্পানির সিমকার্ড, ১২টি অ্যান্টেনা, একটি রাউটার উদ্ধার হয়েছে। একটি কালো রংয়ের গাড়িতে তল্লাশি করেই এগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মিলেছে তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশও। 
Advertisement
পুলিসের দাবি, ওই ব্যক্তি সিমবক্স বিক্রি করতে ভারতে এসেছিল। ধৃতের কাছে ভারতীয় আধার কার্ড, নেপালের নাগরিকের পরিচয়পত্র এবং আরও বেশকিছু নথি উদ্ধার করা হয়েছে। সিমবক্সের মাধ্যমে সাইবার অপরাধের পাশাপাশি অপরাধমূলক ও নাশকতামূলক কার্যকলাপ করা হয়। সিমবক্স থেকে কল করলে সেই ফোনকল ট্র্যাক করা বা তার লোকেশন জানা যায় না। কিছুদিন আগে ফুলবাড়িতে একটি মোবাইলের দোকানে সিমবক্স চক্রের হদিশ মেলে। পরে শিলিগুড়ির প্রধাননগর থানা এলাকাতেও সিমবক্স চক্রের পর্দা ফাঁস করে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। এবার নেপাল সীমান্ত সিমবক্স উদ্ধার হওয়ায় গোয়েন্দাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। শিলিগুড়ি আদালতের সরকারি আইনজীবী সুশান্ত নিয়োগী বলেন, সিমবক্স সহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবারপ আদালতে তোলা হলে বিচারক ওই ব্যক্তিকে পাঁচদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। 
সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমানে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিমবক্স সহ গ্রেপ্তার ব্যক্তির উপর বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। কীভাবে, কোন উদ্দেশ্যে এই সিমবক্স এদেশে নিয়ে আসা হচ্ছিল তা নিয়ে দফায় দফায় পুলিস সহ বিভিন্ন বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগকে জেরা করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ মহল। এর আগে যে সকল জায়গায়  সিমবক্স ধরা পড়েছিল সেই চক্রের সঙ্গে ধৃতের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। কোনওভাবেই এই বিষয়টিকে লঘুভাবে নিতে চাইছে না পুলিস ও বিভিন্ন এজেন্সির শীর্ষ আধিকারিকরা। পুলিসের একটি অংশের দাবি, শিলিগুড়ি সহ শহরতলীর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় এই চক্র জাল বিস্তার করে থাকতে পারে। খুব স্বাভাবিকভাবেই ওই ব্যক্তির বিষয়ে বাড়তি নজরদারি রাখতে চলেছে গোয়েন্দারা। ছোট তথ্য থেকেও বড় কোনও ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস করাই বর্তমানে পুলিসের শীর্ষ আধিকারিকদের মূল লক্ষ্য।
সম্পর্কিত সংবাদ