Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এবার লকারেই পড়ে রইল বুড়া কালীমাতার সোনার মুখমণ্ডল

বালুরঘাটের ঐতিহ্যবাহী বুড়া কালী মাতার পুজো উপলক্ষ্যে সোমবার রাতে ভক্তদের ঢল নামল

এবার লকারেই পড়ে রইল বুড়া কালীমাতার সোনার মুখমণ্ডল
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, পতিরাম: বালুরঘাটের ঐতিহ্যবাহী বুড়া কালী মাতার পুজো উপলক্ষ্যে সোমবার রাতে ভক্তদের ঢল নামল। কিন্তু চৈত্র সংক্রান্তিতে বুড়া কালীমাতার পুজোয় মন খারাপ হয়ে গেল ভক্তদের। লকারেই থেকে গেল মায়ের সোনার মুখমণ্ডল সহ নানা গয়না। তাই পুরনো রূপোর তৈরি মুখমণ্ডলেই পুজিতা হলেন মা। কিন্তু কেন এই জটিলতা?  

Advertisement

মন্দির কমিটি জানিয়েছে, মন্দিরের সম্পাদক ছিলেন গোপাল পোদ্দার। তিনি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। তিনি বাইরে চিকিৎসাধীন। তাঁর কাছেই লকারের চাবি থাকে। অসুস্থতা জনিত কারণে তিনি কিছুতেই চাবির কথা মনে করতে পারছেন না। এদিকে পুজো কমিটির তরফে ব্যাঙ্কে যোগাযোগ করেও কোনও লাভ হয়নি। 
সোমবার ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকায় শেষ চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। ফলে পুরনো রূপোর তৈরি মুখমণ্ডলেই এবার পূজিতা হচ্ছেন শহরের ঐতিহ্যবাহী বুড়াকালী। বর্তমান পুজো কমিটির সম্পাদক অমিত মহন্ত বলেন, আগের সম্পাদকের কাছে চাবি রয়েছে। তিনি এতটাই অসুস্থ যে চাবি সম্পর্কে কিছুই বলতে পারছেন না। এদিকে ব্যাঙ্কও বন্ধ। তাই আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারলাম না। তাই সোনার মুখমণ্ডল ও গয়না বের করতে পারিনি। রূপোর পুরনো মুখমণ্ডল ও গয়নাতেই এবার পুজো হবে। এনিয়ে আমাদেরও মন খারাপ। তবে পুজোর নিয়ম ও নিষ্ঠার খামতি নেই। সমস্ত নিয়ম মেনেই এবারও মায়ের পুজো হচ্ছে। 
এক ভক্ত রঞ্জিতা সাহা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরাও খুব মর্মাহত। তবে কিছু করার নেই। বছরে দু’বার বড় করে মায়ের পুজো হয়। তাই একটু মন খারাপ হলেও আমরা সবাই বিষয়টি মেনে নিয়েছি। 
পুজো কমিটির সূত্রে খবর, ওই কমিটির সভাপতি প্রাক্তন মন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তী এবং সম্পাদক গোপাল পোদ্দার। ওই কমিটি দীর্ঘদিন ধরেই পুজো পরিচালনা করে আসছে। বছরে দু’বার বুড়া মা কালী মাতার পুজো হয়। 
দীপান্বিতা অমাবস্যায় এবং চৈত্র সংক্রান্তিতে। চৈত্র সংক্রান্তির  রাতে পুজো শুরু হয়ে পরের দিন  সকাল পর্যন্ত চলে। পুজো দেখতে রাত থেকে মানুষের ঢল নামে। এদিকে বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালেও  মানুষের ভিড় হবে। 
কথিত আছে, এক সময় মন্দিরের একেবারে কাছ দিয়ে ঘন জঙ্গলের মধ্যদিয়ে আত্রেয়ী নদী বয়ে যেত। নদীর ধারে নিজে থেকেই ভেসে ওঠে বুড়া কালী মাতার বিগ্রহ বা শিলা খণ্ড। এক তান্ত্রিক সেসময় ওই বিগ্রহকে তুলে নিয়ে এসে পুজো দেন। তারপর থেকেই এই পুজো শুরু হয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ