সংবাদদাতা, বাগডোগরা: উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পর নতুন করে চিতাবাঘের আতঙ্ক ছড়াল বাগডোগরার গোঁসাইপুর লালমনজোত এলাকায়। দু’দিন আগে এলাকায় চিতাবাঘটিকে সামনাসামনি দেখেছেন বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাগডোগরায় চিতাবাঘটি চলে আসতে পারে বলেও অনুমান করছে বনদপ্তর। এই ক’দিনে ওই এলাকার তিন-চারটে ছাগল ও গোরু নিখোঁজ হওয়ায় ব্যাপক আতঙ্কও ছড়িয়েছে।
মঙ্গলবার হাতে লাঠি, বাঁশ নিয়ে স্থানীয় বেশ কয়েকজন মিলে এলাকার একটি চা বাগানে এলে সেখানে কয়েকটি প্রাণীর শরীরের অংশ ও হাড়গোড় দেখতে পান। এমনকী বাগানের নালায় চিতাবাঘের পায়ের ছাপও তাঁরা দেখেন। এমন অবস্থায় শ্রমিকরা এদিন চা পাতা তোলার কাজ বন্ধ রেখে দেন। ফলে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ওই চা বাগানের মালিকপক্ষ।
দুলে রায় নামে এক শ্রমিক বলেন, বাগানে পাতা তুলছিলাম। হঠাৎ বাগানের একপাশে চা গাছগুলি নড়ছিল। উঁকিঝুঁকি দিতেই গা শিউরে ওঠে। চোখের সামনে জ্বলজ্বল করছিল দু’টি চোখ। ওটা চিতাবাঘ ছিল। বাগানের নালা টপকে গিয়ে দৌড় অন্য শ্রমিকদের জানাই। এরপরই সকলেই ঘটনাস্থলে আসেন। আমরা পাতা তোলা এদিন বন্ধ করে দিই। মালিককেও জানানো হয়েছে।
মনা রায় সিংহ নামে এক বাসিন্দা বলেন, চিতাবাঘের আতঙ্কে রাতের ঘুম ছুটেছে আমাদের। ছোট ওই বাগানের আশপাশে একাধিক গ্রাম ও জনবসতি রয়েছে। এলাকা থেকেই একের পর এক গৃহপালিত পশু নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের অনুমান, চিতাবাঘই গোরু-ছাগল তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ভীষণ আতঙ্কে দিন কাটছে। বনদপ্তরকে খবর দেওয়া হলে বনকর্মীরা এসে দেখে গিয়েছেন। আমরা চাই, খাঁচা পেতে চিতাবাঘটিকে ধরা হোক।
ওই চা বাগানের ম্যানেজার জীবন রায় বলেন, কয়েকদিন ধরে পাতা তোলার কাজ চলছিল। চিতাবাঘের আতঙ্কে শ্রমিকরা বাগানে যেতে চাইছেন না। ওঁদের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়াও ঠিক হবে না। এদিকে, সময় মতো পাতা না তুলতে পারলে ক্ষতি হবে। শ্রমিকরাও আর্থিক সমস্যায় পড়বেন। বনদপ্তরকে পুরো বিষয়টি জানিয়েছি। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কার্শিয়াং বনবিভাগের বাগডোগরার রেঞ্জার সোনম ভুটিয়া জানান, খবর পেয়ে টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছে। সেখানে চিতাবাঘ আছে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে চিতাবাঘটি আসতেই পারে। তাই বিভিন্ন ট্র্যাপ ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিয়মিত টহলদারি শুরু হয়েছে বাগান ও সংলগ্ন গ্রামে। প্রয়োজনে খাঁচা বসানো হবে।
উল্লেখ্য, গতমাসে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গ্রামে চিতাবাঘের হামলায় জখম হয়েছিলেন এক ব্যক্তি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও হানা দিয়েছিল বাঘটি। পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে ছাগলের টোপ দিয়ে খাঁচা বসানো হলেও চিতাবাঘ বন্দি হয়নি। সেই চিতাবাঘই এনবিইউ থেকে অদূরে গোঁসাইপুরে এসেছে বলে অনুমান স্থানীয় বাসিন্দাদের। • এখানেই
প্রাণীর হাড় দেখতে পান বাসিন্দারা। - নিজস্ব চিত্র।