Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘এবার দেখছি বারাসতে থাকাই ছাড়তে হবে’, ১২ ঘণ্টাই ‘শব্দদানব’! প্রশাসনের উপর ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা

পরপর ল্যাম্পপোস্টে চোঙ বাঁধা। সকাল ৯টা থেকে তারস্বরে মাইক বাজানো শুরু হচ্ছে। রাত ১০টা পেরিয়ে গেলেও থামছে না শব্দদানবের তাণ্ডব!

‘এবার দেখছি বারাসতে থাকাই ছাড়তে হবে’, ১২ ঘণ্টাই ‘শব্দদানব’! প্রশাসনের উপর ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা
  • ১১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পরপর ল্যাম্পপোস্টে চোঙ বাঁধা। সকাল ৯টা থেকে তারস্বরে মাইক বাজানো শুরু হচ্ছে। রাত ১০টা পেরিয়ে গেলেও থামছে না শব্দদানবের তাণ্ডব! সন্ধ্যার দিকে রাস্তায় যখন গাড়িঘোড়ার চাপ বাড়ছে, তখন মাইকের আওয়াজের সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে যানবাহনের হর্নের শব্দ। কখনও আবার মাইকের শব্দে শোনা যাচ্ছে না পিছনের গাড়ির হর্ন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। সারাক্ষণ মাইকের কানফাটানো শব্দে প্রবীণ নাগরিকদের অসুস্থতা বাড়ছে। উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর বারাসত শহরের বিস্তীর্ণ অংশে এভাবেই ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সারা বছর কখনও রক্তদান শিবির, কখনও স্থানীয় মেলা বা অনুষ্ঠানের প্রচারে মাইক বাজিয়ে প্রচার তো আছেই। সামনে দুর্গাপুজো। তাই এখন দোকান, শপিং মল, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচারিত হচ্ছে দিনরাত। ভুক্তভোগীরা প্রশ্ন তুলছেন, এই শহরের উপর দিয়েই তো পুলিস ও প্রশাসনের পদস্থ কর্তাদের নিত্য যাতায়াত। সবটাই তো তাঁদের চোখের সামনে আছে। আইনত চোঙ বাজানো তো অপরাধ। কিন্তু কারও কোনও হুঁশ নেই! আদৌ কি টনক নড়বে প্রশাসনের? এই অবস্থা চলতে থাকলে বারাসতে থাকাই ছাড়তে হবে বলেও হতাশা প্রকাশ করছেন কেউ কেউ। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন অনেকে। 

Advertisement

বারাসতের চাঁপাডালি, কলোনি মোড়, হেলাবটতলা, হরিতলা মোড় এলাকা অত্যন্ত জনবহুল। এসব এলাকায় পরপর বাতিস্তম্ভে কার্যত স্থায়ীভাবে চোঙ বাঁধা আছে। বিভিন্ন কর্মসূচির প্রচার চলছে। তবে, পুজো সামনে থাকায় সারাক্ষণ চলছে হরেক বিজ্ঞাপন। এক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনও অনুমতি নেই বলেই জানা গিয়েছে। বিকট আওয়াজে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিসকেও। তাঁরা বলছেন, এত জোরে শব্দ হচ্ছে যে ওয়কাটকিতে কথা শোনা যাচ্ছে না। চাঁপাডালির ব্যবসায়ী তথা স্থানীয় বাসিন্দা কমল চক্রবর্তী বলেন, ‘দিনের পর দিন এই জিনিস চললেও কোনও নেতামন্ত্রী বা আমলার নজর নেই। মাইকের অত্যাচারে তো এবার বারাসতে থাকাই ছাড়তে হবে দেখছি।’ ডাকবাংলোর বাসিন্দা নীলাভ কিস্কু পেশায় স্কুলশিক্ষক। তিনি বলছিলেন, ‘এতদিন ধরে মাইক বাজছে, কেউ কিছু জানে না! আসলে সব জেনেও নীরব প্রশাসন।’ কলোনি মোড়ের বাসিন্দা জিনিয়া ঘোষ বলেন, ‘আমার বাড়িতে দু’জন হার্টের রোগী। বাড়ির উপরে সারাক্ষণ মাইক বেজে চলেছে। এত শব্দ যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়বে।’ এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বারাসতের মহকুমা শাসক সোমা দাসকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তোলেননি। বারাসত পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার অতীশ বিশ্বাস বলেন, ‘এনিয়ে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি আমরা। তবে মানুষের স্বার্থে শীঘ্রই যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে।’ -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ