সংবাদদাতা, হলদিয়া: পূর্ব মেদিনীপুর ও নন্দীগ্রাম দুই স্বাস্থ্য জেলায় সর্বস্তরে নিয়োগ প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে। আগামী দু’তিন সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য দপ্তরের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হবে। বুধবার হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে উন্নত পরিকাঠামোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে একথা বলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ইউনিস রিশিন ইসমাইল। ওই হাসপাতালে অর্থোপেডিক সার্জারির জন্য নতুন সি-আর্ম যুক্ত একটি ফ্র্যাকচার টেবিল আনা হয়েছে। একইসঙ্গে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেও ওই একই ধরনের পরিকাঠামো যুক্ত হয়েছে। এদিন হলদিয়া থেকেই জেলাশাসক পাঁশকুড়া হাসপাতালের ওই পরিকাঠামোর ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন। হলদিয়া পেট্রোকেম দুই হাসপাতালে ওই পরিকাঠামো গড়তে সহায়তা করেছে। জেলাশাসক বলেন, নতুন করে নিয়োগের ফলে সরকারি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে লোকবল বাড়বে। চিকিৎসা পরিষেবা দিতে সুবিধে হবে।
জেলায় দু’ভাবে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতি হচ্ছে। একদিকে নিয়োগের ফলে লোকবল বাড়বে, অন্যদিকে আধুনিক ও উন্নত যন্ত্রপাতি আনা হচ্ছে চিকিৎসার জন্য। এর ফলে গ্রাম থেকে মহকুমায় কলকাতায় রেফার কেস কমবে। এদিন স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কাজের জন্য হলদিয়ার শিল্প সংস্থাগুলি এগিয়ে আসছে বলে প্রশংসা করেন জেলাশাসক। তিনি বলেন, জেলায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতিতে রাজ্য যেমন খরচা করছে, বিভিন্ন শিল্প সংস্থাও এগিয়ে আসছে তাঁদের সিএসআর স্কিম নিয়ে। তিন, চার বছর ধরে পূর্ব মেদিনীপুরে জেলা প্রশাসনের নজরদারিতে শিল্প সংস্থাগুলি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কাজ করছে।জেলাশাসক আরও বলেন, অর্থোপেডিক সার্জারির জন্য দু’টি ফ্র্যাকচার টেবিল প্রয়োজন ছিল হলদিয়া ও পাঁশকুড়ায়। হলদিয়া পেট্রোকেম সামাজিক দায়বদ্ধতা স্কিমে স্বাস্থ্য দপ্তরকে এই সাহায্য করেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিএমওএইচ বিভাস রায়, বিধায়ক তাপসী মণ্ডল, মহকুমা শাসক তীর্থঙ্কর বিশ্বাস, হলদিয়া পেট্রোকেমের প্ল্যান্ট হেড সন্দীপ বালকৃষ্ণ বিপ্র, জেনারেল ম্যানেজার সমীরণ সরকার, স্বামী বিবেকাত্মানন্দ মহারাজ প্রমুখ। সিএমওএইচ বিভাস রায় বলেন, হলদিয়া শিল্পাঞ্চল ও মুম্বাই রোডে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে অর্থোপেডিক সার্জারির প্রয়োজন হলে তমলুক বা কলকাতায় রেফার করতে হত। বিশেষ ধরনের ওই টেবিল ও যন্ত্রপাতি থাকলে এবার সেই সার্জারি হলদিয়াতেই করা যাবে। জেলায় ১১৫ ধরনের পদে নিয়োগের কাজ দ্রুত শেষ করবে স্বাস্থ্য দপ্তর। ইতিমধ্যেই বহু জায়গায় নতুন নিয়োগ হয়েছে। পাশাপাশি এদিন জেলাশাসক হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে দ্রুত রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠক ডাকতে বলেন সিএমওএইচকে। ভগ্নপ্রায় হলদিয়া মহকুমা হাসপাতাল নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর। এদিকে, উদ্বোধনের পর পড়ে থাকা বার্ন ইউনিট নিয়েও বিপাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কবে ওই বার্ন ইউনিট চালু হবে তা নিয়ে কোনও সদুত্তর মেলেনি। প্রায় ৮ কোটি টাকা খরচে মহকুমা হাসপাতালে ওই ইউনিট গড়ে দিয়েছে আইওসি রিফাইনারি।