নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পুরুলিয়ার পর এবার ঝালদা পুরসভাকে করা হল শোকজ। উন্নয়নের কাজের নিরিখে প্রশ্ন তুলে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফে ঝালদা পুরবোর্ডকে শোকজ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ এই সংক্রান্ত একটি চিঠি পুরসভায় এসে পৌঁছেছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যে শহরজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা চলছে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি এবার পুরুলিয়া পুরসভার মতো ঝালদারও রাশ প্রশাসকের হাতে যেতে চলেছে। কারণ পুরুলিয়ার ক্ষেত্রে শোকজের কয়েকদিন পরেই বোর্ড ভেঙে দিয়ে মহকুমা শাসককে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ঝালদা পুরসভার চেয়ারম্যান সুরেশ আগরওয়াল বলেন, দপ্তরের তরফে শোকজের চিঠি পাঠানো হয়েছে। সাতদিনের মধ্যে শোকজের উত্তর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সোমবার এনিয়ে আলোচনা করে এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শোকজের উত্তর দেওয়া হবে। আশা করি, দপ্তর শোকজের উত্তরে সন্তুষ্ট হবে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত অনলাইন মিউটেশন পদ্ধতি ও কঠিন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ শুরু না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে ঝালদা পুর কর্তৃপক্ষকে শোকজের মুখে পড়তে হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে ঝালদা পুরসভাতেও বদল আসন্ন। তারই প্রাথমিক ধাপ এই শোকজ। যদিও পুর কর্তৃপক্ষ এখনই এনিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, শোকজের উত্তর দেওয়ার পূর্বে চেয়ারম্যান বোর্ড সদস্যদের নিয়ে বৈঠক বসবেন। যদিও তার দিনক্ষণ অবশ্য এখনও স্থির হয়নি।
পুরুলিয়ায় প্রশাসক বসানোর পর ঝালদা পুরসভাকে শোকজ করা নিয়ে সরগরম জেলার রাজনীতি। সিপিএমের জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায় বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও দুর্নীতিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এটা অন্যতম কায়দা। এতে আখেরে সাধারণ মানুষের তেমন কোনও লাভ হবে না। জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নেপাল মাহাত বলেন, পুরুলিয়ার মতো ঝালদা পুরসভার এই বোর্ডকেও ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। শোকজ চিঠি পাঠানো শুধুমাত্র লোক দেখানো। আসলে ঘুরপথে দলীয় সিদ্ধান্তকে সরকারিভাবে কার্যকর করার একটা প্রয়াস মাত্র। এটা গণতন্ত্রের উপর বিশাল আঘাত। কিন্তু, এভাবে নির্বাচিত একটি পুর বোর্ড ভেঙে দিয়ে শহরের আদৌ কোনও উন্নয়ন হবে বলে আমার মনে হয় না। উলটে এতে শহরের উন্নয়ন আরও থমকে যাবে। শহরবাসীকে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হবে। জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাত বলেন, আমাদের দলে সাধারণ মানুষের গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই সাধারণের মানুষের পরিষেবার বিষয়ে পুরসভাকে শোকজ করা হয়েছে। এর সঙ্গে রাজনৈতিক স্বার্থের কোনও সম্পর্ক নেই।