নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রাইমারি স্কুল কখন খোলা থাকবে তা নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দু’রকম নির্দেশিকায় বিভ্রান্তি চরমে। গরমের ছুটির পর ২জুন থেকে সরকারি স্কুল খুলে গিয়েছে। ৩জুন জেলা প্রাইমারি বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি হাবিবুর রহমান এক নির্দেশিকা জারি করে সকালে স্কুল খোলার কথা জানান। সেইমতো ৪জুন বুধবার জেলাজুড়ে সকাল সাড়ে ৬টায় স্কুল খুলে যায়। এদিন সকালে শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্কুলে গিয়ে জানতে পারেন, ফের সংসদ সভাপতি নতুন একটি নির্দেশিকা জারি করে যথারীতি সকাল সাড়ে ১০টাতে স্কুল চালানোর কথা বলেছেন। প্রতিটি সার্কেলের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপেও ওই নির্দেশিকা কপি পোস্ট করা হয়।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ এবং বিরক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এর জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা কচিকাঁচা পড়ুয়া থেকে অভিভাবক, সকলের কাছে হেয় হচ্ছেন। গোটা ঘটনায় জেলা প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিলের সমালোচনায় মুখর শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সব প্রাইমারি স্কুল সকালে খোলার বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা প্রত্যাহার করে ফের দুপুরে স্কুলের বিজ্ঞপ্তি জারির ঘটনা এককথায় নজিরবিহীন। একাধিক শিক্ষক সংগঠন এনিয়ে রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং জেলা প্রাইমারি বিদ্যালয় সংসদের মধ্যে ইগোর লড়াই দেখছে। রাজ্যের অনুমতি ছাড়াই কীভাবে এই বিজ্ঞপ্তি জেলা দিল তা নিয়েও শিক্ষক মহল প্রশ্ন তুলেছে।
রাজ্যের অনুমোদন ছাড়াই এরকম একটি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল। যেকারণে জেলা প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিলকে রাজ্যের নির্দেশে পিছু হটতে হল। বুধবার গোটা পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সকালে স্কুল হয়। ক্লাস চলাকালীন শিক্ষকরা জানতে পারেন, বৃহস্পতিবার থেকে আবার আগের মতো দুপুরে স্কুল হবে। সেইমতো কচিকাঁচা পড়ুয়াদেরও বৃহস্পতিবার থেকে ফের সকাল সাড়ে ১০টায় স্কুলে আসতে বলা হয়।
অতীতেও গরমের ছুটির পর সকালে স্কুল হয়েছে। কিন্তু, রাজ্য এবং জেলার মধ্যে সমন্বয় থাকায় সমস্যা হয়নি। এবার রাজ্যের অনুমতি ছাড়াই বিজ্ঞপ্তি জারি করতে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়লেন জেলা প্রাইমারি বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি হাবিবুর রহমান।
বুধবার বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এনিয়ে জেলা প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিলের সভাপতিকে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। সংগঠনের জেলা সম্পাদক সৌমিত্র পট্টনায়েক বলেন, দু’দিনে দু’রকম নোটিসে অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ। শিক্ষকরা হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন। ছাত্রছাত্রীরাও বিভ্রান্ত হচ্ছে। প্রায় চার দশক ধরে অবিভক্ত মেদিনীপুরে গরমের সময় সকালে স্কুল হতো। আগের তুলনায় এখন গরম আরও বেড়েছে। অথচ সকালে স্কুলের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের দাবি, গোটা জুন মাস সকালে স্কুল চালু থাকুক।
নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি অশোক দাস বলেন, দু’দিনে দু’রকম বিজ্ঞপ্তিতে সর্বত্র বিভ্রান্তি বেড়েছে। রাজ্যের পর্ষদ সভাপতির খামখেয়ালিপনায় প্রাথমিক শিক্ষার সুস্থ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। জেলার শিক্ষক-শিক্ষিকারাও অস্বস্তির মধ্যে পড়ছেন। তাঁরা অভিভাবকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন না। জেলা প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিলের সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, গরমের সময় সকালে স্কুল করার বিষয়ে গত মার্চ মাসে একটি চিঠি রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদে পাঠানো হয়েছিল। ২জুন থেকে স্কুল খোলার পর প্রচণ্ড গরমের জন্য সকালে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিই। যদিও রাজ্যের নির্দেশে ৫জুন থেকে সকালের পরিবর্তে দুপুরে স্কুল হবে। প্রতীকী ছবি