Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘বর্তমান’ খবরের জের, অবৈধ খাদানের কারবারিদের নোটিস, প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে ডাক বিডিও অফিসে

‘বর্তমান’ পত্রিকার খবরে জেরে বলরামপুরের অবৈধ পাথর খাদানগুলি নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছিলেন পুরুলিয়ার মহকুমা শাসক। সেই রিপোর্ট মহকুমা শাসকের দপ্তরে জমা পড়েছে।

‘বর্তমান’ খবরের জের, অবৈধ খাদানের কারবারিদের নোটিস, প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে ডাক বিডিও অফিসে
  • ১৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: ‘বর্তমান’ পত্রিকার খবরে জেরে বলরামপুরের অবৈধ পাথর খাদানগুলি নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছিলেন পুরুলিয়ার মহকুমা শাসক। সেই রিপোর্ট মহকুমা শাসকের দপ্তরে জমা পড়েছে। অবৈধ খাদান বন্ধে ইতিমধ্যেই অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। দাঁতিয়ায় যে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বনদপ্তরের জমিতে ‘অবৈধ’ খাদান তৈরির অভিযোগ উঠেছে, তাঁকেও তলব করা হয়েছে। তাঁর কাছে কী নথি রয়েছে, তা দেখতে চেয়েছে প্রশাসন। মহকুমা শাসক উত্পল ঘোষ বলেন, রিপোর্ট তলব করেছিলাম। সেই রিপোর্ট জমা পড়েছে। যা যা পদক্ষেপ করার করা হচ্ছে। 

Advertisement

উল্লেখ্য, পুরুলিয়ার বারবাজারের পাশাপাশি বলরামপুরেও ‘অবৈধ’ পাথর কারবারের রমরমা রয়েছে। দিনের বেলা পুলিস, প্রশাসনের নাকের ডগায় বলরামপুরের অবৈধ পাথরের কারবার চলে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। একাধিক ছোট-বড় খাদানের পাশাপাশি বহু পাথর ক্র্যাশার রয়েছে। সবচেয়ে বড় খাদানটি রয়েছে বেলা অঞ্চলের দাঁতিয়ায় পুলিসের ইন্টার স্টেট নাকা চেকপোস্ট থেকে কয়েকশো মিটার দূরেই। অভিযোগ, প্রায় ৩২ একরের বেশি বনভূমির জায়গা দখল করে ওই খাদানটি গড়ে উঠেছে। প্রশাসন ও শাসক দলের নেতাদের হাত করে ওই খাদানটি ঝাড়খণ্ডের এক ব্যবসায়ী চালান। সরকারকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছিল। প্রশাসনের আধিকারিকরা স্বীকার করেছিলেন, বলরামপুরের সমস্ত খাদানই ‘অবৈধ’। তবে, বছরের পর বছর ধরে এই অবৈধ করবার চলে এলেও কোনও পদক্ষেপই করেনি প্রশাসন। কেন অবৈধ পাথর কারবার নিয়ে পদক্ষেপ করেনি প্রশাসন? কিসের স্বার্থে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছিল? কারা মদত দিচ্ছে এই অবৈধ কারবারে? সম্প্রতি এইসব প্রশ্নই তোলা হয়েছিল ‘বর্তমান’ পত্রিকায়।  
এরপরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এনিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেন এসডিও। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৯ জুলাই বলরামপুর বিডিও অফিসে বিডিও সৌগত চৌধুরী, বিএলএলআরও চিন্ময় পতি, থানার অফিসার ইনচার্জ সৌম্যদীপ মল্লিক এবং রেঞ্জার সৈকত মণ্ডল মিলে একটি বৈঠক করেন। অবৈধ পাথর কারবার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান চালানোর ব্যাপারেও প্রত্যেকেই একমত হন। সেই সঙ্গে দাঁতিয়ার যে খাদানটির বিরুদ্ধে বনভূমি দখলের অভিযোগ উঠেছে, সেই ব্যবসায়ীকেও তলবের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ১৬ জুলাই বুধবার ওই ব্যবসায়ীকে বিডিও অফিসে ডেকে পাঠানো হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত এক আধিকারিক মানছেন, বৈঠক হয়েছে। এবার থেকে অবৈধ খাদান বন্ধে সবরকম পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি বনদপ্তরের জমি দখল করে যে সমস্ত খাদান, ক্র্যাশার রয়েছে, প্রত্যেককে নোটিস পাঠানো হবে।   
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ব্যবসায়ীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার জন্যই ডেকে পাঠানো হয়েছে। ব্যবসায়ীর কাছে কী নথি রয়েছে, তা দেখতে চাওয়া হবে। প্রশাসনের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে বনদপ্তরের জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি মামলা চলছে। কিন্তু, তার মানে তো এই নয় যে তিনি অবৈধভাবে খাদান চালাবেন। ডিনামাইট ফাটাবেন। তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়ার জন্যই ডেকে পাঠানো হয়েছে। আধিকারিকের সাফ হুঁশিয়ারি, নথি না দেখাতে পারলে খাদান বন্ধ করে দেওয়া হবে। সরকারের রাজস্বে ক্ষতি বরদাস্ত করা হবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ