সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে জেলা বিজেপির এক নেত্রীর অশ্লীল ভিডিও ও ছবি ভাইরাল করার অভিযোগে এবার বর্ধমান শহরের বাসিন্দা দলেরই এক নেত্রীকে নোটিশ ধরাল পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর মায়ের কাছে নোটিশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অতি শীঘ্রই তাঁকে কাটোয়া থানায় তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে দেখা করার জন্য বলা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিডিও ভাইরাল কাণ্ডে ইতিমধ্যেই বজরং দলের এক যুব নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জেরা করে এই ঘটনায় ওই নেত্রীর যোগ রয়েছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। ওই নেত্রীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে। বিজেপির সাংগঠনিক কাটোয়া জেলার সভাপতি স্মৃতিকণা বসু বলেন, অপরাধীর শাস্তি হওয়া দরকার। মহিলাদের সম্মান সবার আগে। পুলিশ তদন্ত করে অভিযুক্তদের খুঁজে বের করুক।
প্রসঙ্গত, জুলাই মাসে সামাজিক মাধ্যমে ‘বর্ধমান বাঁচাও’ নামে একটি গ্রুপ থেকে এক নেত্রীর কিছু অশ্লীল ভিডিও ও ছবি ভাইরাল করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেখানে বিজেপির ওই নেত্রীর বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়। সেই কমেন্টে দলের নানা সময়ের গোষ্ঠী কোন্দলের ছবি ফুটে ওঠে। এরপরেই ১৬ জুলাই কাটোয়া থানায় লিখিত অভিযোগ জানান ওই বিজেপি নেত্রী। তিনি জানান, সমাজমাধ্যমে ওই ছবি ‘এডিট’ করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এরপরেই ২৯ অক্টোবর উত্তর ২৪ পরগোনা জেলার অশোকনগর থেকে গ্রেফতার করা হয় বজরং দলের সক্রিয় কর্মী রাজেশ সাহাকে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি মোবাইল। ধৃতকে শনিবার ফের কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১৪ দিনের জেল হেপাজতে রাখার নির্দেশ দেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মোবাইলটি নাকি রাজেশের নামে ছিল। ওই মোবাইল থেকেই বিজেপির জেলার নেত্রীর অশ্লীল ছবি ভাইরাল করা হয়। এরপর রাজেশকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশকিছু তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। নেত্রীর অশ্লীল ছবি ভাইরাল কাণ্ডে যোগসূত্র রয়েছে বর্ধমান শহরে বিজেপির মহিলা মোর্চার এক নেত্রীর সঙ্গে। অভিযুক্ত ওই নেত্রী বলেন, আমাকে পুলিশ নোটিশ দিয়েছে। কী জন্য থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে, তা জানতে তদন্তকারীদের সামনে যাব। তদন্তে সহযোগিতা করব। কাটোয়ার বিধায়ক তথা পূর্ব বর্ধমান জেলার তৃণমূলের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এর থেকে বোঝাই যাচ্ছে, বিজেপি একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দল।