নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে আসার পর জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। বিশেষ করে অসামরিক বিমান পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ে যাঁরা খোঁজ-খবর রাখেন, তাঁরা একবাক্যে বলছেন, রিপোর্ট কোনওভাবেই স্বচ্ছ নয়! অনেক প্রশ্ন রয়েছে। কিছু আড়াল করা হচ্ছে। আর সবটাই ঠেলে দেওয়া হচ্ছে পাইলটদের ঘাড়ে। অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাগত জোয়ারদার বলেন, এয়ার ইন্ডিয়া ১৭১-এর ওই বিমানের পাইলট অত্যন্ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর উপর এত বড় বিমানের দায়িত্ব ছিল। ওই বিমানের এতজন মানুষের জীবনের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে ছিল। সর্বোপরি নিজের জীবন ছেড়ে দিয়ে পাইলট দুটো ইঞ্জিন বন্ধ করে দিয়েছেন, এটা ভাবা যায় না। ধোঁয়াশা রয়েছেই। অবসরপ্রাপ্ত পাইলট সুমন্ত রায়চৌধুরী বলেন, ওই বিমানের পাইলট বোকা নাকি যে নিজের পায়ে কুড়ুল মারবেন? জীবন শেষ করে দেবেন। আসলে কিছু একটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
মূলত, এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর তদন্ত রিপোর্টে পাইলট ও কো-পাইলটের মধ্যে কথোপকথন সামনে আসার পর হইচই পড়ে গিয়েছে। তাতে ককপিট ভয়েস রেকর্ডার থেকে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাতে কথোপকথনের একটি অংশ চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। যেখানে কো-পাইলটকে পাইলট ক্যাপ্টেন বলছেন, ইঞ্জিন ওয়ান এবং টু দুটোই রান থেকে কাট অফ মোডে চলে গিয়েছে। ফুয়েল সুইচ কাট অফ করছ কেন? কিন্তু কো পাইলট জানান, আমি কো করিনি।
তাহলে কী করে ঘটনা ঘটল? প্রশ্নটা সেখানেই। ঠিক এখানেই প্রাক্তন পাইলটরা বলছেন, এয়ার ইন্ডিয়ার ১৭১-এর বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমান দুর্ঘটনার সব দায় বা দোষ কেন পাইলটদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে? কখনও কোনও পাইলট নিজের জীবনকে শেষ করে যাবেন না। ফলে গোটা বিষয়টির অভ্যন্তরে অন্য কোনও বার্তা লুকিয়ে রয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত পাইলটরা প্রশ্ন তুলেছেন, পাইলটদের ঘাড়ে দোষ দেওয়ার আগে পারিপার্শিক তথ্য প্রমাণ কী ছিল, কোনও ওয়ার্নিং লাইট জ্বলছিল কি না, সেটা অত্যন্ত বিবেচ্য বিষয়। প্রাথমিক রিপোর্টে যে তথ্য সামনে এসেছে তা পরিষ্কার নয়। তদন্তের বিষয়টি কোনওভাবে অন্যদিকে ‘ডাইভার্ট’ করা হচ্ছে না তো!
একইসঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত পাইলটের মত, ড্রিমলাইনার নিয়ে বেশকিছু অভিযোগ আগেও সামনে এসেছে। ডিজাইনে সমস্যা রয়েছে। সেদিক থেকে নতুন ডিজাইনের এয়ারক্রাফট প্রয়োজন। ড্রিমলাইনার ও ইঞ্জিন সংস্থার বিষয় নিয়েও অনেক প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে।