Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

শুধু ওটিপি নয়, এবার আরও এক ধাপ যাচাই! ডিজিটাল লেনদেনে প্রতারণা ঠেকাতে ব্যাংকগুলিকে নির্দেশ আরবিআইয়ের

পুজোয় সপরিবারে পাহাড়ে যাচ্ছেন বিরাটির বিশ্বজিৎ হাজরা (নাম পরিবর্তিত)। কিন্তু, অনলাইনে দার্জিলিংয়ের হোটেল বুক করতে গিয়ে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল তাঁর।

শুধু ওটিপি নয়, এবার আরও এক ধাপ যাচাই! ডিজিটাল লেনদেনে প্রতারণা ঠেকাতে ব্যাংকগুলিকে নির্দেশ আরবিআইয়ের
  • ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১১:০৯
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: পুজোয় সপরিবারে পাহাড়ে যাচ্ছেন বিরাটির বিশ্বজিৎ হাজরা (নাম পরিবর্তিত)। কিন্তু, অনলাইনে দার্জিলিংয়ের হোটেল বুক করতে গিয়ে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল তাঁর। বিশ্বজিৎবাবু ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে প্রতারকদের পাল্লায় পড়েছেন। কিছুক্ষণের মধ্যে অ্যাকাউন্ট সাফ। ডিজিটাল পেমেন্ট করতে গিয়ে এইভাবে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনা এখন রোজকার বিষয়। দিন দিন তা বেড়েই চলেছে। ডিজিটাল জালিয়াতির এই বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতেই এবার নয়া গাইডলাইন আনল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)। শুধুমাত্র ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপিতে ভরসা নয়, আরও এক ধাপ যাচাই বা ‘অথেন্টিকেশন’ করাতে হবে ব্যাংকগুলিকে। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে চালু হবে যাচাইয়ের এই বাড়তি ধাপ। 

Advertisement

কিন্তু কী সেই বাড়তি ধাপ? সেব্যাপারে অবশ্য এখনও সুস্পষ্ট কোনও উপায় জানানো হয়নি। তবে ডিজিটাল পেমেন্ট ট্রানজাকশনের অথেন্টিকেশন ব্যবস্থায় যে বড় ধরনের বদল আনছে আরবিআই, সেটা স্পষ্ট। কোনও জালিয়াত যাতে সাধারণ মানুষের টাকা লোপাট না করতে পারে, অর্থাৎ গ্রাহকদের বিভিন্ন ধরনের আর্থিক জালিয়াতির হাত থেকে সুরক্ষিত রাখাই এই পরিবর্তনের আসল লক্ষ্য। আরবিআই জানিয়েছে, নয়া নিয়মে ‘টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশনে’র পাশাপাশি ‘রিস্ক বেসড চেক’ করা হবে। অর্থাৎ সোজা কথায়, ওটিপির সঙ্গে আরও একটি সুরক্ষাবলয়। সেটা হতে পারে বায়োমেট্রিক বা হাতের আঙুলের ছাপ, হার্ডওয়্যার টোকেন এবং টোকেটাইজেশনের মতো পদ্ধতি। হয় আধার ভিত্তিক নয় ডিভাইস বা স্মার্টফোনের সাহায্যে ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ অথেন্টিকেশন করার উপরও জোর দিয়েছে আরবিআই। শীর্ষ ব্যাংকের গাইডলাইনে বলা হয়েছে, অথেন্টিকেশন ফ্যাক্টরে যুক্ত করা যেতে পারে পাসওয়ার্ড, পাসফ্রেজ, পিন, এসএমএস ভিত্তিক ওটিপি, কার্ড হার্ডওয়্যার, সফ্টওয়্যার টোকেন, ফিঙ্গার প্রিন্ট বা অন্যান্য বায়োমেট্রিক পদ্ধতি। এগুলির মধ্যে পছন্দের পদ্ধতি গ্রাহকদের বেছে নিতে বলবে ব্যাংক বা কার্ড প্রদানকারী সংস্থা।
এছাড়া আরবিআই-এর পক্ষ থেকে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে নতুন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এমনকি, কোনও বিদেশি ব্যবসায়ী বা গ্রাহক যদি নন-রেকারিং, ক্রস বর্ডার, কার্ড নট প্রেজেন্ট ট্রানজাকশন করতে চান, সেক্ষেত্রেও ‘অ্যাডিশনাল অথেন্টিকেশন’ যোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনলাইন পেমেন্ট করতে গিয়ে প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে কষ্টার্জিত টাকা হারাতে হচ্ছে। সেই কারণেই আরবিআই চাইছে, ‘টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশনে’র বাইরে ‘অ্যাডিশনাল সিকিওরিটি’ ব্যবহার করুক গ্রাহকরা। আর সেটা নিশ্চিত করা গেলেই ভবিষ্যতে জালিয়াতির ফাঁদে পড়ে টাকাপয়সা হারানোর আশঙ্কা কয়েকগুণ কমবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ