সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: পরিষেবা না পেয়ে সোমবার জয়পুরে সাব পোস্টঅফিসে গ্রাহকরা তুমুল বিক্ষোভ দেখান। শুধু জয়পুর নয়, জেলাজুড়ে সিংহভাগ পোস্ট অফিসে পরিষেবা ধীর গতিতে চলছে। কোথাও একেবারেই অমিল হয়ে পড়েছে পরিষেবা। এই অবস্থায় দিকে দিকে গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এদিন জয়পুরে গ্রাহকরা একজোট হয়ে বিক্ষোভ দেখান।
ডাকবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, সফটওয়্যার পরিবর্তন করার ফলে ডাকবিভাগের কাজকর্ম গোটা জেলাজুড়ে সর্বত্র ধীর গতিতে চলছে। গ্রাহকদের পরিষেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, পরিষেবা অর্ধেকে নামিয়ে আনলেও তা অনলাইনে আপডেট করতে রাত জাগতে হচ্ছে। এই অবস্থায় সমস্যার বিষয়টি কেন্দ্রীয়স্তরে জানানো হয়েছে বলে ডাক বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
জয়পুর সাব পোস্টমাস্টার এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে না চাইলেও বিষ্ণুপুর সাব পোস্টমাস্টার তথা ডাক কর্মচারী সংগঠনের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি আশিস বোস বলেন, আইটি-২ সফটওয়্যার আপডেট করার ফলে আর্থিক লেনদেন সহ অন্যান্য যাবতীয় গ্রাহক পরিষেবায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তা চলছে। সফটওয়্যার খুবই ধীর গতিতে চলায় কাউন্টারে লম্বা লাইন পড়ছে। গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। কর্মীরাও অস্বস্তিতে পড়ছেন। আমরা অধিক রাত পর্যন্ত কাজ করে তা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। উদ্ভুত সমস্যার বিষয়ে আমরা সংগঠনের তরফে কেন্দ্রীয়স্তরে অভিযোগ জানিয়েছি।
ডাকবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া জেলায় মোট ৫৪টি সাব পোস্টঅফিস রয়েছে। প্রতিটি সাব পোস্টঅফিসের অধীনে ১০থেকে ১২টি করে শাখা ডাকঘর রয়েছে। তার মধ্যে সাব পোস্টঅফিসগুলিতে সফটওয়্যার খুবই ধীর গতিতে চলছে। শাখা অফিসে কার্যত কোনও কাজই করা যাচ্ছে না। টাকা জমা ও তোলা যাচ্ছে না। স্পিড পোস্ট করা যাচ্ছে না। মেয়াদ উত্তীর্ণ আমানতের টাকাও পাওয়া যাচ্ছে না। পরিষেবা না পেয়ে দিকে দিকে গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। জরুরি প্রয়োজনে টাকা তুলতে এসে না পেয়ে তাঁরা ভীষণ বিপাকে পড়ছেন।
জয়পুরে এদিন বিক্ষোভকারী গ্রাহকরা বলেন, আমরা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঘুরছি। টাকা তুলতে এসেও না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। ডাক কর্মচারীরা সফটওয়্যারের অজুহাত দেখিয়ে দায় সারছেন। কিন্তু, আমাদের মতো সাধারণ গ্রাহকরা বিপাকে পড়ছেন। এখন চাষের মরশুমে খেতমজুরদের টাকা মেটাতে
হচ্ছে, অন্যান্য প্রয়োজনেও টাকার দরকার। কিন্তু, তা পাওয়া যাচ্ছে
না। -নিজস্ব চিত্র