Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘শিলিগুড়ির উন্নয়নে এক টাকাও দেননি’, শিখা-জয়ন্তর বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন গৌতম

শিলিগুড়ি শহরের সংযোজিত এলাকার জন্য এক নয়া কড়িও বরাদ্দ করেননি বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় ও জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়।

‘শিলিগুড়ির উন্নয়নে এক টাকাও দেননি’, শিখা-জয়ন্তর বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন গৌতম
  • ১৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি শহরের সংযোজিত এলাকার জন্য এক নয়া কড়িও বরাদ্দ করেননি বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় ও জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়। কিন্তু দার্জিলিংয়ের বিজেপি এমপি রাজু বিস্তার বরাদ্দ টাকার সিংহভাগই খরচ করেছে পুরসভা। এমএলএ ও এমপি ফান্ডের অর্থ খরচ নিয়ে একথা জানান শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। একইসঙ্গে বিজেপির এক বিধায়ককে উদ্দেশ্য করে তাঁর দাবি, উন্নয়ন নিয়ে পুরসভা কোনও দিন সংকীর্ণ রাজনীতি করেনি। করবেও না। 

Advertisement

শিলিগুড়ি পুরসভায় ওয়ার্ড ৪৭টি। যারমধ্যে ১-৩০ ও ৪৫-৪৭ এই ৩৩টি দার্জিলিং জেলার অধীনে। ৩১-৪৪ এই ১৪টি ওয়ার্ড জলপাইগুড়ি জেলার অধীনে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলি পুরসভার সংযোজিত এলাকা। যা বিজেপির দখলে থাকা ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এবং জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। সেখানে বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় ও এমপি জয়ন্ত রায়। 
সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলির উন্নয়নে বিজেপির এমপি ও বিধায়কের ভূমিকা নিয়ে সরব হন মেয়র। তিনি বলেন, বিজেপির নেতারা অনেক কথা বলেন। কিন্তু সংযোজিত ওয়ার্ডের উন্নয়নে এক টাকাও দেননি। উন্নয়ন আমরাই করছি। 
এবিষয়ে জানতে ফোন করা হলেও জলপাইগুড়ির এমপি’র সাড়া মেলেনি। মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়েও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক অবশ্য বলেন, পুরসভা আমাদের দেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়িত করবে না। ওরা টাকা ফেলে রাখবে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলির উন্নয়নের জন্য অর্থ পুরসভাকে বরাদ্দ করা হয়নি। এখন অন্যভাবে এলাকাগুলিতে কাজ করার চেষ্টা করছি। 
এমপি ও এমএলএ ফান্ডের বরাদ্দের তথ্য দিয়ে বিজেপির একাংশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ করেছেন মেয়র। তিনি বলেন, ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে ছ’টি প্রকল্পের জন্য নিজের এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে ৪২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেন দার্জিলিংয়ের এমপি। তিনি অ্যাম্বুলেন্স কেনার জন্য ছ’লক্ষ টাকা দিয়েছেন। কিন্তু সেই অ্যাম্বুলেন্স কিনতে প্রয়োজন ন’লক্ষ টাকা। তাই তাঁর সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি। ২২ নম্বর ওয়ার্ডে আর একটি নির্মাণ কাজের জন্য পাঁচলক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছেন। সেই প্রকল্পের ওয়ার্ক অর্ডার হলেও নির্মাণস্থলে কিছু সমস্যা থাকায় কাজ শুরু করা যায়নি। তবে, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচ লক্ষ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ১১ লক্ষ টাকায় রাস্তা এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচ লক্ষ টাকায় নালার কাজ করা হয়েছে। ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ১০ লক্ষ টাকায় নালার কাজ চলছে। 
এর বাইরে ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যাম মন্দির লেন মেরামতির জন্য বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য ১৫ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রকল্প রাজ্য সরকারের টাকায় পুরসভা করবে। এমন পরিসংখ্যান দিয়ে মেয়র বিজেপির একাংশের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। বলেন, উন্নয়ন নিয়ে আমরা অসহযোগিতা করছি না। কিছু না জেনেই রাজনৈতিক হাওয়া গরমের উদ্দেশ্যে মিথ্যাচার করছে বিজেপির একাংশ। 
এদিকে, বৃহস্পতিবার বিজেপির এক বিধায়ক বলেন, মেয়র যা বলছেন, তার সঙ্গে তথ্যের মিল নেই। পাল্টা মেয়র বলেন, প্রশাসনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এমএলএ ফান্ড নিয়ে যা বলার বলেছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ