Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শটসার্কিট নয়, আগুন ধরানো হয়েছে ট্রেনে! কাটোয়া স্টেশনে ফরেনসিক দল

বাইরে থেকে আগুন লাগানোর তত্ত্বেই অনড় রেল। রবিবার কাটোয়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা কাটোয়া-আজিমগঞ্জ ট্রেনের একটি বগি আচমকা দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে।

শটসার্কিট নয়, আগুন ধরানো হয়েছে ট্রেনে! কাটোয়া স্টেশনে ফরেনসিক দল
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: বাইরে থেকে আগুন লাগানোর তত্ত্বেই অনড় রেল। রবিবার কাটোয়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা কাটোয়া-আজিমগঞ্জ ট্রেনের একটি বগি আচমকা দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। মুহূর্তেই সেটি পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে প্রথম থেকেই পূর্ব রেল জানিয়ে আসছে, ট্রেনটির সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। ফলে, শটসার্কিট থেকে আগুন ধরে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই। রেলের বক্তব্যে এটা স্পষ্ট, বাইরে থেকে কেউ আগুন না ধরিয়ে দিলে এভাবে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ত না। তবে, কে বা কারা এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, তা সোমবার রাত পর্যন্ত চিহ্নিত করতে পারেনি রেল। স্টেশনে সমস্ত সিসি টিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এর মধ্যে এদিনই দুপুরে এসে পৌঁছেছে আট সদস্যের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ দল। তারা দু’টি দলে ভাগ করে তদন্ত শুরু করেন। অগ্নিদগ্ধ বগির ভিতর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন বিশেষজ্ঞরা। সেগুলি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে মনে করছেন রেলকর্তারা। স্টেশন ও পুড়ে যাওয়া বগি পরিদর্শন শেষে পূর্ব রেল পুলিশের আইজি অমিয়নন্দন সিনহা বলেন, ‘আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি। প্রাথমিকভাবে রেলের যান্ত্রিক কোনও সমস্যা সামনে আসেনি। সিসি টিভি ফুটেজে কয়েকজন লোককে যাতায়াত করতে দেখা গিয়েছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তাঁরাও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। কোনও রাসায়নিক পদার্থের জন্য আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল কি না, সেটাও দেখা হবে। রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। এখনও পর্যন্ত সন্দেহজনক কাউকেই আটক করা হয়নি।’   

Advertisement

এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে থাকা কলকাতায় কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে ৪ সদস্যের বিশেষজ্ঞ টিম কাটোয়ায় আসেন। দলে রয়েছেন ডেপুটি ডিরেক্টর ডঃ পি পাউল রমেশ। অন্যদিকে, দুর্গাপুর থেকে রিজিওন্যাল ফরেন্সিক ল্যাবরেটরি আসেন ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল। বিশেষজ্ঞরা পুড়ে যাওয়া ট্রেনের বগিটি কয়েক ঘন্টা ধরে পরীক্ষা করেন। ছবি তোলেন। স্টেশনে থাকা সিসি ক্যামেরার কন্ট্রোল রুম গিয়ে একাধিক ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। রমেশ বলেন, ‘আমরা নমুনা সংগ্রহ করেছি৷ এখনই কিছু বোঝা যাবে না৷ ল্যাবেরেটরিতে পরীক্ষা করা হবে৷ তারপর আমরা রিপোর্ট দেব৷ পাশাপাশি আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজও পরীক্ষা করছি। তবে, বগির মধ্যে থাকা ব্যাটারি ঠিকঠাক ছিল৷’ 
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, ‘ফরেন্সিক টিম কি রিপোর্ট দেয়, সে দিকে তাকিয়ে রয়েছি। আগুন কে বা কারা লাগাল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে রেলপুলিশ।’ পূর্ব রেলের এক আধিকারিক বলেছেন, ‘এটা অন্তর্ঘাত ছাড়া কিছুই নয়৷ সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার মানসিকতা এক ধরনের মানুষের মধ্যে রয়েছে৷ তারাই এ কাজ করে থাকতে পারে।’ রেলকর্মী যুধিষ্ঠির মণ্ডল বলেন, ‘তেইশ বছর চাকরি করছি৷ এতবড় বগির মধ্যে আগুন লাগার ঘটনা প্রথম দেখলাম৷  নিষিদ্ধ সংগঠনগুলি ট্রেন পুড়িয়ে দেয়৷ সেই ছবি টিভিতে দেখেছি৷ তবে, কিভাবে আগুন লাগল সেটাই বুঝতে পারছি না।’ যদিও  নাশকতার তত্ত্বও উড়িয়ে দিয়েছেন রেল পুলিশের আইজি।    নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ