নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: প্রবল বর্ষণ ও ধসের জেরে বিপর্যস্ত সিকিম। কার্যত বন্যা পরিস্থিতি উত্তর সিকিমে। সেখানে ভয়াল রূপ নিয়েছে তিস্তা। ফলে বড় বিপর্যয়ের শঙ্কায় সিকিমের একাধিক জায়গায় জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মঙ্গন জেলার। ধসে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানকার দুই জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র লাচেন এবং লাচুংয়ে প্রায় ১৫০০ পর্যটক আটকে পড়েছেন। মঙ্গনের পুলিস সুপার সোনাম ডেচু ভুটিয়া জানিয়েছেন, লাচুংয়ে ১৩৫০ জন এবং লাচেনে ১১৫ জন পর্যটক আটকে পড়েছেন। সূত্রের খবর, আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্যে সিংহভাগই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। চুংথাং, থেং, টুং নাগা, সিংথাম, দিকচু সহ বাংলা-সিকিম সীমানা রংপোতে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সরানো হয়েছে নিরাপদ স্থানে। তিস্তার পাড়ে মোতায়েন করা হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। বাসিন্দাদের সতর্ক করতে চলছে মাইকিং। বিপুল জলরাশি নিয়ে নিম্ন অববাহিকায় ধেয়ে আসছে নদী। তিস্তার এই রুদ্র মূর্তি ভয় ধরাচ্ছে উত্তরবঙ্গে সমতলের বাসিন্দাদেরও। সেইসঙ্গে ভুটান পাহাড়ে চলছে ভারী বৃষ্টি। ফলে জোড়া ফলায় বাংলায় বিপত্তি। জল বাড়ছে ডুয়ার্সের নদীগুলিতেও। বীরপাড়ায় এশিয়ান হাইওয়ের অ্যাপ্রোচ রোড ধসে গিয়েছে। বাংরি নদীতে হড়পা বানের জেরে ভেঙেছে মাদারিহাট-টোটোপাড়া রাজ্য সড়ক। বন্ধ যান চলাচল। সবমিলিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে উত্তরেও। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেচদপ্তরের উত্তরপূর্বের চিফ ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক বলেন, সমতলে তিস্তায় জল বাড়লেও এখনও তা নিয়ে তেমন চিন্তার কারণ নেই। তবে আমরা যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৈরি।



