নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: একদিকে লাগাতার ভারী বৃষ্টি। অন্যদিকে, পাহাড়ি রাস্তায় ধস। এই জোড়া ধাক্কায় চরম বিপর্যস্ত উত্তর সিকিম। আটকে প্রচুর বাঙালি পর্যটক। রীতিমতো উদ্বেগে তাঁরা। উত্তর সিকিমের সঙ্গে গ্যাংটকের সড়কপথে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন। মঙ্গলবার রাত থেকেই পর্যটকদের উদ্ধারে নেমেছে সেনা। কাজ করছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও সিকিম পুলিস। কিন্তু একাধিক জায়গায় বড় ধসের জেরে আটকে পড়া পর্যটকদের গ্যাংটকে পৌঁছে দিতে কালঘাম ছুটছে সিকিম প্রশাসনের।
গরমের ছুটিতে বহু বাঙালিরই গন্তব্য হয়ে থাকে সিকিম। কাশ্মীরে টেনশন থাকায় সেই অংশটাও লাচেন, লাচুং, গ্যাংটকের দিকে ফিরেছিল। কিন্তু এই ধসের কারণে সেই পরিকল্পনাও ধাক্কা খেল। শিলিগুড়ির পর্যটন ব্যবসায়ী সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘লাচুংয়ে পর্যটকদের ৫০টি গাড়ি আটকে রয়েছে বলে বুধবার সন্ধ্যার খবর। প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। যে কোনও মুহূর্তে নতুন করে ধস নামতে পারে। তাই গাড়িগুলিকে গ্যাংটকে আসতে দেওয়া হয়নি।’
সিকিম প্রশাসন সূত্রে খবর, ধসের জেরে বন্ধ লাচুং এবং লাচেনের রাস্তা। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সাংকেলান ও ফিডাংয়ের মধ্যে সড়ক যোগাযোগও। মঙ্গন থেকে চুংথাং ভায়া ফিডাং রোড স্তব্ধ। ধসে বন্ধ হয়ে গিয়েছে মঙ্গন থেকে টুং নাগা হয়ে চুংথাং যাওয়ার নতুন রাস্তাও। মঙ্গন থেকে চুংথাং ভায়া সাংকেলান রোড সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বহু জায়গায় সড়কপথের চিহ্নমাত্র নেই। সিকিম প্রশাসন জানিয়েছে, ঘুরপথে কয়েকটি রাস্তা দিয়ে উত্তর সিকিমে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করে গ্যাংটকে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বৃষ্টি না থামায় সে কাজেও বেগ পেতে হচ্ছে।
এরই মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টা উত্তর সিকিমে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ফলে পরিস্থিতি আরও সঙ্কটজনক হতে পারে। আটকে পড়া পর্যটকদের যাতে দ্রুত শিলিগুড়িতে নামিয়ে আনা যায়, সেই চেষ্টা চলছে। আপাতত পর্যটকদের উত্তর সিকিমে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। বন্ধ রাখা হয়েছে অনলাইন ট্যুরিস্ট পারমিট। শিলিগুড়ির আরএক পর্যটন ব্যবসায়ী রাজ বসু বলেন, ‘যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে ধস নেমে উত্তর সিকিমের সঙ্গে গ্যাংটকের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।’
বিপর্যয়ের জেরে সাংকেলান সিডব্লুসি রোডে পর্যটকদের একশোটিরও বেশি গাড়ি আটকে পড়ে। প্রবল বৃষ্টি ও ধসের কারণে রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ঘোরালো হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। কিছু গাড়ি স্থানীয় বিডিও অফিসের পার্কিংয়ে রাখা হয়েছে। কয়েকটি গাড়ি লিংডং চলে যায়। তবে চোখের সামনে ধস নামতে দেখে বহু পর্যটক এগনোর সাহস পাননি। তাঁরা মঙ্গলবার রাতভর বৃষ্টির মধ্যে গাড়িতেই কাটান। পর্যাপ্ত খাবার, জলও ছিল না বলে অভিযোগ।
উত্তর সিকিমের মঙ্গন প্রশাসনের আধিকারিক দাওয়া লেপচা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত থেকে পর্যটকদের শতাধিক গাড়ি আটকে ছিল। এদিন সকাল থেকে তাঁদের উদ্ধারের কাজ শুরু হয়। ধস সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কারের চেষ্টা চলছে। তবে বৃষ্টির জন্য কাজে বাধা পেতে হচ্ছে।