সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: রোগীর মৃত্যুতে ফের উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠল। আর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার মধ্যরাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্সদের সঙ্গে মৃতের পরিবারের হাতাহাতি হয়। তার জেরে মৃতার পরিবারের এক মহিলাকে ও মৃতদেহ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে কর্তব্যরত চিকিৎসক নার্সদের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে ১২টার পর ওই মহিলাকে ছাড়িয়ে আনেন তাঁর পরিবারের লোকেরা এবং মৃতদেহ নিয়ে তাঁরা রওনা হন বাড়ির উদ্দেশ্যে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বাগডোগরা ভুজিয়াপানির ২৭ বছরের যুবতী পূজা সাহানি পেটের যন্ত্রণা নিয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে ভর্তি করে নেওয়া হয়। সার্জিকাল ওয়ার্ডেও নিয়ে যাওয়া হলেও সেভাবে কোনও চিকিৎসা হয়নি বলে মৃতার পরিবারের অভিযোগ। তাঁর পরিবারের তরফে মনোতোষ সাহানি বলেন, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রোগীকে না দেখেই ভর্তি করতে পাঠিয়ে দেন। এনিয়ে বলতে গেলে আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন সেখানে থাকা হাসপাতালের লোকজন। ওয়ার্ডেও জুনিয়র ডাক্তাররা সেভাবে চিকিৎসা করেননি। সকলে মোবাইল ফোনেই ব্যস্ত ছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই রোগী মারা যায়। চিকিৎসায় গাফিলতির নিয়ে বলতে গেলে তাঁরা দলবদ্ধভাবে আমাদের দিকে তেড়ে আসেন। সেই সময়ই দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। তারপর পুষ্পা সাহানি নামে আমার এক বোনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্সরা আটকে রাখেন। মৃতদেহও ছাড়েনি।
এনিয়ে এদিন বেলা ১২টা পর্যন্ত টানাপোড়েন চলে। মৃতার পরিবারের তরফে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অথচ হাসপাতালের তরফে এদিন কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। মেডিকেল ফাঁড়ির এক অফিসার জানিয়েছেন, মৃতের পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি আটকে রাখা মহিলাকেও ছাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়।
এই ঘটনায় জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ, জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা ঠিকমতো রোগী দেখেন না। অনেকে মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কেউ এর প্রতিবাদ করতে গেলেই দুর্ব্যবহার করা হয়। যদিও এসব কোনটাই মানতে নারাজ হাসপাতালে সুপার কাম প্রিন্সিপাল ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক। তিনি বলেন, ওই মেয়েটিকে রেফার করা হয়েছিল। তার প্যানক্রিয়াটাইটিস জটিল অবস্থায় চলে গিয়েছিল। ভর্তি করা হয় সার্জিকাল ওয়ার্ডে। আলট্রাসনোগ্রাফি করে দেখা যায় তাঁর অ্যাকিউট প্যানক্রিয়াটাইটিস। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির লোককে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁদের রোগী সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে। বাঁচানো কঠিন। এরপর মারা গেলে তাঁর পরিবারকে মৃত্যুর খবর দিলে ওই চিকিৎসককে মৃতের পরিবারের লোক চড় মারেন। এই নিয়েই গণ্ডগোল হয়। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে মৃতদেহ এবং মৃতার পরিবারের কাউকেই হাসপাতালে আটকে রাখা হয়নি। বৃধবার রাত ১২টা নাগাদ রোগীর মৃত্যু হয়। মৃতদেহ ছাড়তে ১২ ঘণ্টা লাগল কেন, মৃতার পরিবারের এই প্রশ্নে নীরব থেকেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।