সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: অভিভাবকহীন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল শীতঘুমে আচ্ছন্ন। দীর্ঘ ন’মাস ধরে প্রিন্সিপাল ও সুপারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক। হাসপাতাল সুপারের চেম্বার খালি রেখে প্রিন্সিপাল অফিসেই বসেন তিনি। কাগজে-কলমে অ্যাডিশনাল সুপারকে সুপারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, তিনিও নিয়মিত এবং সময়ে অফিসে আসেন না। এতে হাসপাতালের রোগী বা তাঁর পরিবারের লোকেরা বিভিন্ন প্রয়োজনে এসে সুপারের ঘরে কাউকে না পেয়ে সমস্যায় পড়ছেন। দীর্ঘ ন’মাস ধরে চলছে এই পরিস্থিতি। এই সুযোগে অন্যান্য আধিকারিকরাও ঠিকমতো অফিস করেন না বলে অভিযোগ।
সুপার প্রিন্সিপালের চেম্বারে বসায় হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লক কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। সুপারের নজরদারি না থাকায় অধিকাংশ টেবিলেই আধিকারিক থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মী সময়মতো অফিসে আসেন না। প্রায় দিনই বেলা ১২টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্লক ফাঁকাই থাকে। এতে রোগীর পরিবারের লোকদের বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। রোগী রেফার হয়ে গেলে বা অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে সিলমোহরের প্রয়োজনে তাদের ঘোরাঘুরি করে হয়রান হতে হচ্ছে। অনেকেই জানেন না স্থায়ী সুপার ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক প্রিন্সিপালের চেম্বারে বসেন। তিনজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার (নন মেডিকেল) রয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ, সেখানেও সবাইকে নিয়মিত পাওয়া যায় না। অ্যাডিশনাল সুপার ডাঃ নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় ছুটিতে থাকায় ফোন রিসিভ করেননি।
এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী পরিষেবা নিয়ে যেমন নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে সেরকম দপ্তরের কাজেও কর্মীরা হয়রান হচ্ছেন। কর্মীদের বক্তব্য, কোনও নথিতে সুপারের সই করাতে হলে প্রিন্সিপাল অফিসে ছুটতে হয়। সেখানে গিয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক দপ্তরের বিভিন্ন কাজে নানান জটিলতা তৈরি হচ্ছে। রোগীর বাড়ির লোকেরা বিভিন্ন প্রয়োজনে এসে হয়রান হয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ জানিয়ে যাচ্ছেন।
এই সমস্যার কথা মেনে নিয়েছেন ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ভবন যদি স্থায়ী প্রিন্সিপাল বা নতুন সুপার না দেন তাহলে আমার কিছু করার নেই। স্বাস্থ্য ভবনে নির্দেশেই আমাকে দ্বৈত ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য ভবন আমাকে আবার এমএসভিপির চেয়ারে ফিরে যেতে বললে আমি খুশি মনে তা মেনে নেব।