সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অরাজক পরিবেশ ক্রমশ জাঁকিয়ে বসছে। এজন্য হাসপাতালের সর্বস্তরের কর্মীদের কাজের সদিচ্ছার অভাবকেই দায়ী করলেন প্রিন্সিপাল। ঘোষণার পরও হাসপাতাল চত্বর আজও দোকান-বাজার থেকে মুক্ত হয়নি। মেডিসিন আউটডোর থেকে শুরু করে প্রসূতি বিভাগের সামনে সর্বত্র নিত্যনতুন দোকান বসছে। স্থায়ী টোটো স্ট্যান্ড গজিয়ে উঠেছে। করিডরে গবাদিপশু, সারমেয়দের সঙ্গে ভবঘুরেরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। থাকার জায়গার অভাবে প্রতিটি করিডরে রোগীর পরিবারের লোকের বিছানাপত্তর নিয়ে দখল করে রয়েছে। দেখলে মনে হবে কোনও শরণার্থী শিবির।
এখানেই শেষ নয়। জরুরি বিভাগে মুমূর্ষু রোগী নিয়ে এসে পরিবারের লোকেদের হয়রান হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ট্রলি, হুইল চেয়ার না পেয়ে রোগীর পরিবারের আত্মীয়দের হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াতে হয়। বহু কষ্টে ট্রলি কিংবা হুইল চেয়ার পেলেও তা থাকে ভাঙা। পাশাপাশি রোগী নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতালের কোনও কর্মী থাকে না জরুরি বিভাগে। একারণে সম্প্রতি বিনা চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর একাধিক অভিযোগ উঠেছে। টাকার টোপ দিয়ে অস্ত্রোপচার করাতে গিয়েও হাতেনাতে ধরা পড়েছে হাসপাতালের কর্মী। আলট্রাসনোগ্রাফি ডেট পেতে দুই থেকে তিন মাস অপেক্ষা করতে হয়। প্যাথলজিক্যাল ল্যাব রিপোর্ট অনেক ক্ষেত্রেই এক মাসের আগে মিলছে না। উত্তরবঙ্গ মেডিকেলের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ক্রমশ বাড়ছে। নতুন অভিযোগ যোগ হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে সুপার অফিসে গিয়ে রোগীর পরিবারের লোকেরা কোনও প্রতিনিধিকে পাচ্ছেন না।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে হাসপাতালের পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে। এই পরিস্থিতির জন্য হাসপাতাল কর্মীদের একাংশ স্থায়ী সুপার না থাকাটাই প্রধান কারণ বলে মনে করছেন। আগের প্রিন্সিপাল ডাঃ ইন্দ্রজিৎ সাহা ডিএমই হয়ে যাওয়ার পর ডাঃ সঞ্জয় মল্লিককে প্রিন্সিপাল করা হয়েছে। সঙ্গে তিনি হাসপাতালে সুপারের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। মাসের পর মাস এভাবে চলায় হাসপাতালের পরিষেবা ও পরিচালন ব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়েছে। একজনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দু’টি গুরু দায়িত্ব সামলানো কঠিন বলেই মনে করছেন সকলে।
ডাঃ সঞ্জয় মল্লিকও একমত। তবে তিনি এর সঙ্গে যোগ করেছেন প্রত্যেক স্তরের কর্মীদের মধ্যে কাজের সদিচ্ছার অভাবের দিকটি। তিনি বলেন, এভাবে একটা এত বড় হাসপাতাল চলতে পারে না। স্থায়ী সুপার যেমন দরকার, সেরকমই বাকি কর্মীদেরও কাজের ইচ্ছে থাকাটা জরুরি। সুপার একা সব করবেন না। বাকিদেরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতার অভাবে ঠিকমতো সুপারভিশন হচ্ছে না। তার জেরেই হাসপাতাল নিয়ে এত অভিযোগ উঠছে।
বাড়তি ২৫ জন সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার পেয়েও তাঁদের দিয়ে ঠিকমতো কাজ করানো যাচ্ছে না। দোকানপাট তুলে দেওয়ার জন্য পুলিশকে লিখিতভাবে একাধিকবার জানানোর পরও, প্রতিদিন নতুন নতুন দোকানে ভরে যাচ্ছে হাসপাতাল চত্বর।