সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: প্রতিশ্রুতির পরও শুক্রবার বেতন পেলেন না উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঠিকাদার সংস্থার অস্থায়ী কর্মীরা। অভিযোগ, প্রত্যেক মাসেই সময়মতো বেতন মেলে না চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের। চলতি মাসে বেতন না পাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার অবস্থান বিক্ষোভে বসেছিলেন কর্মীরা। পরে এজেন্সির তরফে তাঁদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, শুক্রবার সকালের মধ্যেই প্রত্যেকে বকেয়া বেতন পেয়ে যাবেন।
চুক্তিভিত্তিক ঠিকাকর্মী সংগঠনের সম্পাদিকা প্রতিমা চক্রবর্তী বলেন, বৃহস্পতিবার প্রতিশ্রুতি পেয়ে আমরা অবস্থান বিক্ষোভ স্থগিত রেখেছিলাম। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি মতো এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত কারও বেতন হয়নি। আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছি, প্রত্যেকের বকেয়া বেতন না হলে শনিবার সকাল থেকে সব অস্থায়ী কর্মীরা কর্মবিরতি করে আন্দোলনে নামবেন। তাতে হাসপাতালের পরিষেবা ব্যাহত হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে নিতে হবে। প্রত্যেক মাসে ১২ তারিখ পেরিয়ে গেলেও বেতন দেওয়া হয় না। আমরা এখানে কাজ করে সামান্য টাকা পাই। তাও যদি সময়মতো না পাওয়া যায় তাহলে সমস্যায় পড়তে হয়।
উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের ওই এজেন্সির ফেসিলিটি ম্যানেজার মিঠুন সাহা এদিনও কর্মীদের অনুরোধ করেন কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য। কথা দেন রাতের মধ্যে সকলের বেতন হয়ে যাবে। প্রতি মাসে সময়মতো বেতন না হওয়ার ক্ষেত্রে বিলে প্রিন্সিপালের সই করতে দেরি হওয়ার বিষয়টি এদিনও উল্লেখ করেন ম্যানেজার।
প্রিন্সিপাল ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক এই যুক্তি মানতে নারাজ। তিনি বলেন বরাত পাওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যদপ্তরের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে এজেন্সির, তাতে উল্লেখ নেই যে বিল পাশ হওয়ার পর তিনি কর্মীদের বেতন দেবেন। সময়মতো বেতন দেওয়ার দায়িত্ব এজেন্সির। চুক্তিমতো কাজ না করে ওই এজেন্সি হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট করছে। নিজেদের ত্রুটি আড়াল করতে আমার বিরুদ্ধে কর্মীদের খেপিয়ে তোলার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না।