সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: প্রসূতিকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে গিয়ে পরিবারের লোকেদের নাজেহাল হওয়া, অস্থায়ী নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে হেনস্তার ঘটনার রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টার পরও পাননি হাসপাতাল সুপার। এতে সুপার স্পেশালিটি ব্লকে অস্থায়ী নিরাপত্তাকর্মীদের একাংশের টাকার বিনিময়ে পরিষেবা পাইয়ে দেওয়ার অসাধু চক্রের পিছনে হাসপাতাল কর্মীদের কারও কারও মদত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
ইউএসজি তথা রেডিওলজি বিভাগ সম্প্রতি সুপার স্পেশালিটি ব্লকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারপর থেকেই এখানে আল্ট্রাসনোগ্রাফি দ্রুত করিয়ে দেওয়া, তাড়াতাড়ি রিপোর্ট পাইয়ে দেওয়ার জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। সোমবার এক প্রসূতিকে সকালে ইউএসজি করাতে নিয়ে গেলে তাদের ফিরিয়ে বিকেলে আসতে বলা হয়। সেই মতো পরিবারের লোক ওই প্রসূতিকে বিকেলে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেসময় ডাক্তার ছিলেন না। অভিযোগ, তখন কিছু অস্থায়ী নিরাপত্তাকর্মীর অনৈতিক দাবি নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন রোগীর পরিবারের লোকেরা। সেই বচসা একপ্রকার হাতাহাতিতে রূপ নেয়। যদিও পরবর্তীতে পুলিসের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিটমাট করে দেওয়া হয়।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, দিনের পর দিন এই সুপার স্পেশালিটি ব্লকে অস্থায়ী নিরাপত্তা কর্মীদের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে পরিষেবা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরও উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন নীরব?
মঙ্গলবার হাসপাতালের আরএকটি এজেন্সির নিরাপত্তা কর্মীরা বলেন, আমাদের নিয়ন্ত্রণে যতদিন রেডিওলজি বিভাগ ছিল তখন এ ধরনের অনৈতিক কাজের অভিযোগ কেউ করেননি। শুধু ইউএসজি নয়। এখানে ইকোকার্ডিওগ্রাফি, এক্সরে, রক্ত পরীক্ষা সহ সব পরিষেবা দ্রুত পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কিছু ব্যক্তি রোগীর পরিবারের কাছ থেকেই টাকা দাবি করছে। অনেকে সেই মতো টাকা দিয়ে পরিষেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
হাসপাতাল কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, সুপার স্পেশালিটি ব্লক একটু আড়ালে হওয়ার কারণে অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর পিছনে হাসপাতালের প্রভাবশালী কারও মদত রয়েছে। সেকারণে সোমবারের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। সুপারের কাছে তা পৌঁছয়নি।
হাসপাতাল সুপার ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক বলেন, কারা টাকা চাইছে নির্দিষ্ট করে নাম দিয়ে আমাকে লিখিত অভিযোগ জানালে আমি ব্যবস্থা নেব। কিন্তু বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা নেওয়ার কথা শুনলেও কেউ আমার কাছে লিখিত অভিযোগ জানাচ্ছেন না।
কিন্তু ভুক্তভোগী রোগীর পরিবারের লোকদের অভিযোগ, যে কর্মীরা সামনে এসে এই কাজ করছে তাদের চিহ্নিত করার কোনও উপায় নেই। সুপার স্পেশালিটি ব্লকে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নামের ব্যাচ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করুক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাহলে সেই নাম দেখে চিহ্নিত করে অভিযোগ করা যাবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলেই সুপার স্পেশালিটি ব্লকে এ ধরনের অনৈতিক কাজ বন্ধ হবে।