সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: বিভাগীয় প্রধানের দাবি, পরীক্ষার তিনদিনের মধ্যেই রিপোর্ট দিয়ে দেওয়া হয়। অথচ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি মতো তিনদিন পরে এসেও রিপোর্ট মেলে না। দিনের পর দিন ঘুরে হয়রান হতে হচ্ছে। এই ঘটনায় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিটি স্ক্যান, আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে অসাধু চক্রের যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
বিধাননগরের বাসিন্দা রেহানা খাতুন। বয়স ৫৫ বছর। শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। গত ১৯ নভেম্বর উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বুকের সিটিস্ক্যান করান। তাঁর পরিবারের লোকের বক্তব্য, তিনদিন পর রিপোর্ট নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। সেইমতো এসে রিপোর্ট মেলেনি। তারপর একাধিকবার রিপোর্ট নিতে এসে ঘুরে যেতে হয়েছে। শুক্রবার ফের রিপোর্ট নিতে এলে বলা হয়, রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে না। পরে আসতে হবে।
এই বক্তব্য শোনার পর এদিন রেহানা খাতুনের পরিবারের লোকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তাঁরা হাসপাতালে অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারের অফিসে এসে বিষয়টি জানান। অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার অভিষেক ঘোষ সঙ্গে সঙ্গে রেডিওলজি বিভাগে যোগাযোগ করেন। তাঁকে জানানো হয়, রিপোর্ট নেওয়ার জন্য রোগীর পরিবারের লোককে পাঠিয়ে দিতে।
এই ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে, রিপোর্ট হয়ে গেলেও তা দেওয়ার ক্ষেত্রে কর্মীদের একাংশ অসাধু উদ্দেশ্যে তা দিতে বিলম্ব করছেন। অনেককেই রেডিওলজি বিভাগে ইউএসজি, সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট পাওয়া নিয়ে দিনের পর দিন ঘুরে হয়রান হচ্ছেন। আবার অনেকে পরীক্ষা করিয়ে সেদিনই রিপোর্ট পেয়ে যাচ্ছেন। এই ঘটনায় অনেকেই মনে করেন, রিপোর্ট দেওয়ার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের একাংশ টাকার বিনিময় রিপোর্ট দ্রুত পাইয়ে দিচ্ছেন। টাকা আদায়ের জন্যই রিপোর্ট দিতে ঘুরিয়ে হয়রান করা হচ্ছে।
এই সম্ভাবনার কথা অস্বীকার করেননি হাসপাতালে অ্যাডিশনাল সুপার ডাঃ নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় ও রেডিওলজি বিভাগের প্রধান ডাঃ নারায়ণ পন্ডিত। ডাঃ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট দেওয়া নিয়ে প্রায়ই নানা অভিযোগ আসছে। কেন এমন ঘটছে তা নিয়ে রেডিওলজি বিভাগের প্রধানের সঙ্গে কথা বলতে হবে। রেডিওলজি বিভাগের রিপোর্ট দেওয়ার যে প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে তাতে এ ধরনের অভিযোগ আসার কথা নয়। রিপোর্ট দেওয়ার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ভূমিকা সন্দেহজনক কি না সেটা খতিয়ে দেখা হবে।
ডাঃ নারায়ণ পন্ডিত বলেন, এমন অভিযোগ আসার কথা নয়। সিটি স্ক্যান করার তিনদিনের মধ্যেই রিপোর্ট দিয়ে দেওয়া হয়। তারপরেও রিপোর্ট পেতে মানুষ কেন হয়রান হচ্ছে তা নিয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে দেখব।