নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ঠান্ডা উপেক্ষা করেই বড়দিনে উৎসবের আমেজে উত্তরবঙ্গবাসী। বৃহস্পতিবার সাধারণত জঙ্গলে সাফারি বন্ধ থাকে। কিন্তু আজ বড়দিন হওয়ায় তা খোলা রাখা হয়েছে। ফলে যাঁরা ডুয়ার্সে বেড়াতে আসবেন, তাঁরা গোরুমারা, জলদাপাড়া, চিলাপাতায় সাফারি করতে পারবেন।
আজ থেকেই লাটাগুড়িতে শুরু হচ্ছে এশিয়ান ফোক ফেস্টিভাল। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের শিল্পীরা এই উৎসবে যোগ দিচ্ছেন। থাকবে ডুয়ার্সের বিভিন্ন জনজাতির খাবারের স্টল। তুলে ধরা হবে তাঁদের সংস্কৃতি। পর্যটকরাও চাইলে এই উৎসবে পারফরম্যান্স করতে পারবেন।
সকাল থেকেই ডুয়ার্সের পর্যটনকেন্দ্র ও পিকনিক স্পটগুলিতে ভিড় জমতে শুরু করেছে। গজলডোবায় পর্যটকদের জন্য তিস্তায় নৌকা বিহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জলপাইগুড়িতে বাহারি প্রজাপতি, কার্টুন ও রঙিন ছাতায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে বন দপ্তরের পরিচালনাধীন তিস্তা উদ্যান।
আজ জলপাইগুড়ির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৮ ডিগ্রি। ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে পিকনিকের আমেজে মেতেছে মানুষ। জেলার সমস্ত পিকনিক স্পটকে প্লাস্টিক ফ্রি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া তিস্তাপাড়ে পিকনিকের আসর জমেছে। দূষণ রুখতে এই জায়গাটিকে গ্রিন পিকনিক জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে প্রশাসন। পিকনিকের পাশাপাশি গির্জা ও পার্কগুলিতেও ভিড় জমছে। রঙিন আলোর মালায় সাজানো হয়েছে চার্চগুলি। রাস্তাঘাটও সেজেছে বাহারি আলোয়। শহরজুড়ে উৎসবের আবহ। ফেস্টিভ মুডে মেতেছেন উত্তরবঙ্গবাসী। কেক, ক্রিসমাস ট্রির পাশাপাশি জমাটি শীতে মোমো এবং ভাপা পিঠের দোকানে জমেছে ভিড়। জলপাইগুড়িতে চলছে খাদ্যমেলা। সেখানেও ঢু মারতে ছাড়ছেন না ভোজন রসিকরা।
পাহাড়ে কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে পর্যটকরা বেরিয়ে পড়েছেন রাস্তায়। সকাল থেকেই বিভিন্ন গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা চলছে। রয়েছে ক্রিসমাস কার্নিভাল। পাহাড় ও ডুয়ার্সের হোটেলগুলিতে এদিন থেকেই বিশেষ খানাপিনার আয়োজন থাকছে। তাছাড়া অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত খোলা থাকবে দার্জিলিংয়ের গ্লেনারিসের পানশালা। তবে জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় পিকনিকে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বনদপ্তর। বন্যপ্রাণীর হামলার আশঙ্কা এড়াতেই এই নির্দেশ। জঙ্গলের কাছাকাছি কোথাও পিকনিকে মাইক বাজানো যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।