নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নন্দকুমার ও ময়নায় অস্তিত্বহীন ভোটার খুঁজতে ফিল্ড লেভেল ভেরিফিকেশনের নির্দেশ দিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। ভুয়ো আধার ও প্যান কার্ড দিয়ে অস্তিত্ব না থাকা ভোটারদের নাম তালিকায় উঠেছে। এই জেলার নন্দকুমার এবং ময়না বিধানসভায় এমন আশ্চর্যজনক ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের স্ক্যানারে রয়েছেন দুই ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার(ইআরও)। ময়না ও নন্দকুমারে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার তথা বিডিওদের মাথায় রেখে টিম গঠন করা হয়েছে। তাঁরা ওইসব ভূতুড়ে ভোটারদের খোঁজে ফিল্ড ভেরিফিকেশন করছেন। এক সপ্তাহ আগে ময়নায় ওই কাজ শুরু হয়েছে। নন্দকুমারে সবে ভেরিফিকেশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোটা ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনিক মহলে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে।
নন্দকুমার বিধানসভার ইআরও আছেন পূর্ব মেদিনীপুরের পিএম পোষণের ডিস্ট্রিক্ট অফিসার সৌরভ মিত্র। আর, ময়না বিধানসভার ইআরও রয়েছেন ডিস্ট্রিক্ট অফিসার অব মাইনোরিটি অ্যাফেয়ার্স বিপ্লব সরকার। ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পরই ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা রিটার্নিং অফিসার হন। এই মুহূর্তে বুথ লেভেল অফিসার নিয়োগ, তাঁদের ট্রেনিং সহ ভোটের নানাবিধ কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এরমধ্যেই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, নন্দকুমার বিধানসভায় ৫৯জন অস্তিত্বহীন ভোটারের নাম কমিশনের নজরে এসেছে। ওইসব ভোটারের কোনও অস্তিত্ব নেই। অথচ, ভুয়ো আধার ও প্যান কার্ড ব্যবহার করে তালিকায় নাম তোলা হয়েছে। ভোটার তালিকায় নাম তোলার সময় বুথ লেভেল অফিসাররা(বিএলও) ভেরিফিকেশনে যান। আবেদনকারী সত্যিই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দার কি না, যাচাই করা হয়। নাম তোলার সময় বিএলওর আইডি উল্লেখ করতে হয়। এক্ষেত্রে বিএলওর ভেরিফিকেশনও হয়নি। আইডি দেওয়া নেই। তাহলে কীভাবে তালিকায় নাম এল?
জানা গিয়েছে, সর্ষের মধ্যেই ভূত রয়েছে। সরকারি কর্মী এই ঘটনায় যুক্ত। তাঁকে চিহ্নিতও করেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। এই ঘটনায় শীঘ্রই প্রশাসনের পক্ষ থেকে থানায় এফআইআর দায়ের হবে। নন্দকুমারের ঘটনা সামনে আসার আগেই ময়নাতেও একই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানেও ভুয়ো আধার ও প্যান কার্ডের সাহায্যে অস্তিত্বহীন ভোটারের নাম তালিকায় তোলা হয়েছে। বিএলও ভেরিফিকেশন ছাড়া ভোটার তালিকায় নাম এন্ট্রি করা হয়েছে। ভুয়ো আধার ও প্যান একেবারে আবছা। তালিকায় ভূতুড়ে ভোটার ঢোকার ঘটনা অবশ্য গোপন থাকেনি। গোটাটাই কমিশন প্রকাশ্যে এনেছে। ময়নার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে কমিশনের অফিসে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে।
এখন সারা বছর ধরে ভোটার তালিকায় নাম তোলা, সংশোধন, বিয়োজন চলতে থাকে। একটা দুষ্টচক্র তালিকায় ভূতুড়ে ভোটারের নাম তুলতে সরকারি কর্মীকেই ম্যানেজ করে এসব করছে। এক্ষেত্রে ডকুমেন্টস হিসেবে ভুয়ো আধার ও প্যান জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। বিএলও ভেরিফিকেশনে গেলে সবটা ধরা পড়ত। কিন্তু, সেই ভেরিফিকেশন ছাড়াই তালিকায় নাম তোলা হয়েছে। এখানেই সর্ষের মধ্যে ভূত লুকিয়ে থাকার রহস্য। আপাতত বিডিওদের নেতৃত্বে ফিল্ড লেভেল ভেরিফিকেশন চলছে। ওই কাজ শেষ হলেই আসল অপরাধী শনাক্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, নন্দকুমার ও ময়নার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। তমলুকের এক কর্মী এই ঘটনায় জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। এনিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।