নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: সোমবার সকাল থেকেই থমথমে পাটিকাবাড়ি। মানুষের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। বেলা বাড়তেই বাজারের কয়েকটি সব্জির দোকান খুলতে শুরু করে। তবে এদিন অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। বিশাল পুলিস বাহিনী এলাকার পাড়া ও রাস্তার উপর টহল দিতে থাকে। মানুষের নিরাপত্তা দিতে পুলিস কর্মীরা মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। রাতের বিভীষিকা কাটিয়ে শান্তির পরিবেশ ফিরে আসায় কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলেছে নওদার পাটিকাবাড়ি এলাকায়। পুলিসের পাশাপশি রাজনৈতিক দলের সদস্যরাও আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন এলাকার শান্তি বজায় রাখতে। তবে গতরাতের ঘটনায় বেশ কিছু দোকান ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের সামনেও পুলিসকে টহল দিতে দেখা গিয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব এদিন পাটিকাবাড়ি এলাকায় গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।
এদিন দুপুরে পাটিকাবাড়ি এলাকায় পৌঁছন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। বাজারের কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। অধীরবাবু বলেন, এখানকার মানুষ যুগ যুগ ধরে সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বসবাস করছেন। হঠাৎ করে ব্যতিক্রম হিসেবে একটা ছোট্ট ঘটনা ঘটেছিল তার জেরে উত্তেজনা তৈরি হয়। লক্ষ্য করার বিষয় হল, ওইদিন ৮০ শতাংশ মানুষ ঝামেলা থামাতে চেয়েছেন। ১৫ শতাংশ মানুষ ঝামেলা থামানোর দাবি করেছেন। শুধু ৫ শতাংশ মানুষ গণ্ডগোল করছে। আজ তাই শান্তির বাতাবরণ রয়েছে। এখানে পুলিসও সদর্থক ভূমিকা নিয়েছে। আসলে সমাজ মাধ্যমে তিলকে তাল করা হয়, সেই ফাঁদে যেন আমরা কেউ পা না দিই।
নওদা ব্লক তৃণমূলের সভাপতি সফিউজ্জামান শেখ বলেন, পাটিকাবাড়ি অঞ্চলে কিছু উস্কানিমূলক কথাকে কেন্দ্র করে একটা ঝামেলার সূত্রপাত হয়। রাতভর আমরা এলাকায় থেকে মানুষকে বুঝিয়েছি। সকলের কাছে অনুরোধ করব আপনারা সহমর্মিতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দেবেন। সকাল থেকে পরিস্থিতি শান্ত আছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিস প্রশাসনের সঙ্গে সকলে একত্রে আমরা কাজ করছি। বিজেপি সভাপতি শাখারভ সরকার বলেন, এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য সকলকে দায়িত্ব নিতে হবে। পাটিকাবাড়ি এলাকার মানুষকে শান্ত থাকতে বলছি। পরম্পরা ও ঐতিহ্য বজায় রাখতে স্থানীয়দের অনুরোধ করছি। নিজস্ব চিত্র