সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাট জংশনে প্রতিদিন যাতায়াত করেন কয়েক হাজার যাত্রী। বেশিরভাগ এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজও রয়েছে। এই স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম আরও লম্বা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জংশনে যাত্রী পরিষেবাও বাড়ানো হয়েছে। স্বচ্ছ রেল, স্বচ্ছ ভারতের ঢাক পেটানো হচ্ছে। কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগ, নামেই স্লোগান, প্ল্যাটফর্মের বাইরে রেল চত্বরে নেই কোনও শৌচালয়। ফলে স্টেশন লাগোয়া চত্বরে শৌচকর্ম সারতে হচ্ছে। সব থেকে সমস্যায় পড়ছেন মহিলা যাত্রীরা।
রামপুরহাট জংশনে নেমে তারাপীঠ মন্দিরে যাওয়া আসা করেন দেশের নানান প্রান্তের পর্যটকরা। এছাড়া মহকুমা শহর হওয়ায় আশোপাশের বহু গ্রামের মানুষ এই জংশন ব্যবহার করেন। এই স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের দেওঘর, দুমকা, বিহারের নানা প্রান্তে যাতায়াত করেন বহু যাত্রী। বন্দেভারত সহ একধিক দূরপাল্লার প্রথম সারির ট্রেনের স্টপেজ রয়েছে এই জংশনে। আগের থেকে স্টেশনের ভিতরে ‘স্বচ্ছ রেল, স্বচ্ছ ভারত’ অভিযানের অধীনে স্টেশনের ভিতরের পরিচ্ছন্নতার মান উন্নয়ন হয়েছে। যাত্রী সচেনতা বাড়িয়ে রেল স্টেশন চত্বরকে পরিষ্কার রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু প্লাটফর্মের বাইরে যাত্রীদের জন্য নেই কোনও টয়লেট বা শৌচাগার। বহুবার রাজ্যের শাসক দলের তরফে ডেপুটেশনের দেওয়া হয়েছিল বাথরুম তৈরির জন্য। কিন্তু রেল কোনও কর্ণপাত করেনি। ফলে সমস্যায় পড়ছেন যাত্রীরা। বাধ্য হয়ে প্ল্যাটফর্মের বাইরে যাত্রীদের যত্রতত্র টয়লেট করতে হয়। সেক্ষেত্রে মহিলাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
নিত্যযাত্রী মিঠু বোথরা বলেন, প্ল্যাটফর্মের বাইরে রেল সুলভ শৌচাগার করলে ভালো হয়। অনেকে যেখানে সেখানে রাথরুম করছেন। আর যদি কেউ ভিতরে বাথরুম করতে যায়, প্ল্যাটফর্ম টিকিট না থাকলে টিটি ধরে ফাইন করে দিচ্ছে। বাইরে সর্বত্র যত্রতত্র শৌচকর্ম নয়, বলে পোস্টার সাঁটানো রয়েছে। এরমধ্যে অনেকে টয়লেট করছেন। কিন্তু আরপিএফের নজরে পড়লে শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। বহু মানুষ আত্মীয়দের স্টেশনে ছাড়তে আসেন। তাঁরা সমস্যায় পড়ছেন। মহিলাদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সমস্যা।
পেশায় সরকারি কর্মী লুৎফার রহমান বলেন, স্বচ্ছ রেল, স্বচ্ছ ভারতের মূল কার্যক্রম হল, স্টেশন চত্বর, প্ল্যাটফর্ম, এবং ট্রেনের ভেতরে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা। কিন্তু যেখানে স্টেশন চত্বরে কোনও টয়লেট বা শৌচাগার নেই, সেখানে কী করে এই কার্যক্রম সফল হতে পারে। তিনি বলেন, অনেকে তাঁদের প্রিয়জনকে স্টেশনের বাইরে ছাড়তে আসেন। তাঁদের অনেকেই টয়লেট খুঁজে বেড়ান। আবার যাত্রীদের অনেকের শৌচাগার খুঁজতে গিয়ে ট্রেনও মিস হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাছাড়া স্টেশনের বাইরে টিকিট কাউন্টার। লাইনে অপেক্ষারত যাত্রীদেরও চরম বিপাকে পড়তে হয়। যদিও রেলের এক আধিকারিক বলেন, যাত্রীরা তাঁদের সমস্যার কথা রেলকে জানাক। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিলেই প্ল্যাটফর্মের বাইরে বায়ো টয়লেট হয়ে যাবে।